‘স্বরূপ বিশ্বাস শ্লীলতাহানি করেননি’.. লাইভে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন অভিযোগকারিণী

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের ভাই ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) বিরুদ্ধে সিমরন পাল (Simran Paul) নামে এক মেকআপ আর্টিস্ট শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পেরোতেই এবার সেই অভিযোগকারিণী প্রকাশ্যে আনলেন এক বিস্ফোরক সত্য। ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) এসে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, “স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেননি।” তুমুল শোরগোল শুরু টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে।

শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্বরূপ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুন মাসে সিমরন পাল নামে এক মহিলা মেকআপ শিল্পীর দায়ের করা শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, গত দু’বছর ধরে তিনি কোনও কাজ পাননি। কাজের জন্য যোগাযোগ করলে তাঁর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার পাশাপাশি মার্চ মাসে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই পুলিশ স্বরূপের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে।

মিথ্যে অভিযোগ বলে দাবি করলেন মেকআপ আর্টিস্ট

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই টালিগঞ্জের বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। কর্মীদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে শিল্প জগতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই নানা ধরনের চাপ ও অনিয়মের শিকার হয়েছেন। রীতিমত সেই সময় স্বরূপ বিশ্বাসকে নিতে হৈ হৈ শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর এবার এক মাস পরে ঘটল আরেক ঘটনা। টলিউড ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে শ্লীলতাহানির মতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন মেকআপ আর্টিস্ট সিমরন পাল, সেটিকে সে এবার মিথ্যে বলে দাবি করে ফেসবুক লাইভে এসে সবটা স্বীকার করলেন।

কী বললেন সিমরন পাল?

গতকাল, মেকআপ আর্টিস্ট সিমরন পাল তাঁর প্রোফাইল থেকে লাইভে এসে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানির কেস নিয়ে মুখ খোলেন। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন যে, “স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিয়েছি। কারণ স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেননি। ওনার সঙ্গে আমার কোনোদিন সামনাসামনি কথাই হয়নি। কিছু মানুষের প্ররোচনায়, তাদের ভুল বোঝানোকে বিশ্বাস করে আমি এই কাজ করেছিলাম। যেদিন সবটা বুঝেছি, সেদিন থেকে চেষ্টা করেছি, কেস তুলে নেওয়ার। ভয়ের চোটে পারিনি। ফাইনালি সাহস করে কেস তুলে নিলাম। যা হয় হবে। আমার তো আর নতুন করে কিছু হারানোর নেই। কারা আমাকে দিয়ে এসব করিয়েছিল, সেসব নাম আমি বলছি না।”

ওই মহিলা লাইভের ক্যাপশনে আরও জানান যে, “ঝামেলা অশান্তি আমি আর চাই না। শুধু মন দিয়ে কাজ করতে চাই। আমার জন্য স্বরূপ বিশ্বাস অকারণে জেল খেটেছেন। কিছু না করেই এত বড় একটা বদনাম ওনার হয়েছে। আমি তার জন্য স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। পারলে ছোটো বোন মনে করে আমাকে মাফ করে দেবেন। আপনার সঙ্গে খুব অন্যায় হয়েছে। আর আপনার যে ঘরশত্রু বিভীষণ অবস্থা, সে তো এখন ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই জানে।” আর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নেটিজেনদের মনে।

আরও পড়ুন: ১০ আগস্ট কলকাতায় বন্ধ একাধিক রাস্তা, তালিকা দিল পুলিশ

মেকআপ আর্টিস্ট সিমরনের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশ্ন উঠছে কার প্ররোচনায় তিনি সেদিন এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছিলে আর কার কথাতেই ফের এই মামলা তুলে নিলেন? তবে কি এর পিছনে বিজেপির কোনো কারসাজি আছে যার কারণে এত বড় অভিযোগ আনতে বাধ্য হয়েছিলেন ওই মহিলা, সবটাই এইমুহুর্তে ঝাপসা। এখন দেখার স্বরূপ ঘোষ এই অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করেন কি না।

Leave a Comment