“মরে যেতাম, হামলার পিছনে দায়ী…” হালিশহর কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি মমতার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল জনরোষের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছে কাদা, ইট, জুতো। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ‘চোর চোর’ স্লোগান। তবে সেখান থেকে কোনও মতে বেরিয়ে বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে রেগে লাল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, “আরেকটু হলেই মরে যেতাম।”

হামলার পর কী বললেন মমতা?

হালিশহর থানায় তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় রাজনীতি। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূলের ওই কর্মীকে। এমনকি তাঁর স্ত্রী জেনি শর্মা কাঁচরাপাড়া পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। তবে আদালত ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিলে হালিশহর থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে। রাতেও সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। তবে আচমকা মধ্যরাতে তাঁর রহস্যমৃত্যু নিয়ে তৈরি হচ্ছে রহস্য। এমনকি তাঁর পরিবারের অভিযোগ, থানার ভিতরে বিরজুকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু। যদিও পুলিশ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তবে আজ সেই মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন দলীয় নেত্রী। সেখানেই ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। হালিশহর পৌঁছতেই মমতাকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হয় কাদা এবং জুতো। পাশাপাশি গাড়ির কাঁচে কাদা লেপে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার জন্যই মমতা এখানে এসেছেন।

আরও পড়ুন: হালিশহরে মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা-জুতো! উঠল ‘চোর’ স্লোগান

তবে এই ক্ষোভের মুখে পড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা জানিয়েছেন, “আমার তো মাথা ফেটে যেত। আমরা হয়তো সবাই মরে যেতাম। পুলিশের সামনে এরকম হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকেই বিজেপিকে সুরক্ষা দিচ্ছে। আমার গাড়িতে বিজেপির লোকেরা ইট মারছে। পুলিশের সামনেই আমার গাড়িতে হামলা। এমনকি মৃতের স্ত্রীকে আমার সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়নি। লকআপে থার্ড ডিগ্রি দিয়েছে পুলিশ।” এমনকি এই গোটা ঘটনার জন্য পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেই দায়ী করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment