অনন্যা সরকার, কলকাতা: রেশনে (Rationing) ভাঙা চাল (Broken Rice) কমিয়ে খাদ্যের মানোন্নয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি কার্যকর করতে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য দপ্তরও প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি মরশুমে সেদ্ধ চালে ভাঙা দানার অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং আতপ চালে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেশন প্রাপকরা তুলনামূলক ভালো মানের চাল পাবেন। প্রশাসনিক সূত্র মারফৎ এও জানা গেছে যে, পরবর্তী খরিফ মরশুম থেকে রেশনের ভাঙা চাল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ইথানলের উৎপাদনের জন্য রেশনে কমবে ভাঙা চাল
ইথানল উৎপাদনের জেরে রেশনে সরবরাহ করা চাল থেকে ভাঙা চালের পরিমাণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে বর্তমানে কার্যকর করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারও উঠে পড়ে লেগেছে। আগামী নভেম্বর মাসে ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুম থেকে এটি কার্যকর করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যদপ্তর (Food and Supply Department) একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী মরশুম থেকে সেদ্ধ চালে ১০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ ও আতপ চালে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ ভাঙা চাল মেশানো হবে।
আরও পড়ুন: ৫০ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে বেতার বার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, বিশেষ ভাবনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
তবে প্রশাসনিক সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৭-২৮ খরিফ মরশুম থেকে রেশনের চালে কোনো ভাঙা চালই আর না মেশানোর পরিকল্পনা করছে। এর দরুন রেশন ছাড়াও স্কুলের মিড ডে মিল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহ করা চালের গুণমান বৃদ্ধি পাবে। ই২০ (E20) জ্বালানি তৈরির জন্য পেট্রোলে মিশ্রিত করা ইথানলের জোগান বজায় রাখতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যবস্থা করেছে। জানিয়ে রাখি, আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যশস্যের তুলনায় চাল থেকে ইথানল উৎপাদনের খরচ লিটার প্রতি ৫-৭ টাকা কম হয়।
আরও পড়ুন: পাইপের জল ব্যবহারে এবার দিতে হবে কর! কত করে ট্যাক্স চাপাবে রাজ্য সরকার?
আগামী খরিফ মরশুমে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা এফসিআই (FCI) ৭২ লক্ষ টন চাল ইথানল উৎপাদনের জন্য সরবরাহ করবে বলে স্থির করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মোট উৎপাদিত ইথানলের এক শতাংশের কম তৈরি হত চাল থেকে। ২০২৫-২৬ সালে, সেটাই বেড়ে ২৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। আগামী দিনে চাল থেকে এই জ্বালানির উৎপাদন আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভাঙা চালের পরিমাণ কমাতে সরকারি ধান থেকে চাল উৎপাদন করে যেসমস্ত রাইস মিলগুলি, তাদের মেশিনে অবিলম্বে কারিগরি পরিবর্তন করার জন্য খাদ্যদপ্তর থেকে জেলা জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।