সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এলপিজি গ্যাস নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। গ্যাসের দাম (LPG Price) বাড়ল না তো? এই গ্যাসের হাহাকার পড়ে গেল না তো? এখন এই চিন্তা মানুষের মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন সকালে মানুষ অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করে থাকেন ঘরোয়া রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ল নাকি কমল সেটা জানার জন্য। আজ বৃহস্পতিবারও যার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রশ্ন উঠছে, দাম কি কমল না বাড়ল? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
আজ কি দাম বাড়ল গ্যাসের?
নতুন করে বাড়েনি রান্নার গ্যাসের দাম। আজও, মানে ১৩ আগস্ট, দেশ জুড়ে অপরিবর্তিত রইল ঘরোয়া রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। অন্তত নতুন করে দাম বাড়েনি, এটা ভেবেও মধ্যবিত্তের কিছুটা স্বস্তি। তবে দাম যে আগামী দিনে বাড়বে না, তেমনটাও জোর দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লোকসানের মুখে রয়েছে কিছু তেল সংস্থা। ১৩ আগষ্ট সকালের আপডেট অনুযায়ী, কলকাতায় ডোমেস্টিক সিলিন্ডার বা বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দাম এখন ৯৬৮ টাকা। হোটেল রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত বা কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২,৮৭২.৫০ টাকা। ভারতের অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন চেন্নাই, হায়দরাবাদের তুলনায় কলকাতায় কমার্শিয়াল গ্যাসের দাম কিছুটা কম।
এক নজরে গ্যাসের দাম
১৩ আগস্ট দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দামের তালিকা:
- দিল্লি: ৯৪২ টাকা
- বেঙ্গালুরু: ৯৪৪.৫০ টাকা
- হায়দ্রাবাদ: ৯৯৪ টাকা
- মুম্বাই: ৯৪১.৫০ টাকা
- চেন্নাই: ৯৫৭.৫০ টাকা
- কলকাতা: ৯৬৮ টাকা
- জয়পুর: ৯৪৫.৫০ টাকা
- নয়ডা: ৯৩৯.৫০ টাকা
- গুরুগ্রাম: ৯৫০.৫০ টাকা
- চণ্ডীগড়: ৯৫১.৫০ টাকা
১৩ আগস্ট দেশের বিভিন্ন শহরে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দামের তালিকা
- দিল্লি: ২,৭৩৮ টাকা
- বেঙ্গালুরু: ২,৮২১ টাকা
- হায়দ্রাবাদ: ২,৯৮৫ টাকা
- মুম্বাই: ২,৬৯১.৫০ টাকা
- চেন্নাই: ২,৯০৬ টাকা
- কলকাতা: ২,৮৭২.৫০ টাকা
- জয়পুর: ২,৭৬৫.৫০ টাকা
- নয়ডা: ২,৭৩৮ টাকা
- গুরুগ্রাম: ২,৭৫৫ টাকা
- চণ্ডীগড়: ২,৭৬০ টাকা
আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী দিনে দুই ধরণের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন রান্নার গ্যাসের দাম এই বছরের জুন মাস থেকে অপরিবর্তিত রেখেছে। দাম অপরিবর্তিত রাখার ফলে কোম্পানিগুলো লোকসানের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি। কোম্পানীগুলোকে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ভর্তুকির টাকা একেবারে পাওয়া যায় না। সেখানেই সমস্যা।
আরও পড়ুনঃ ৩৫ মিনিটেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ, এবছরেই চালু হচ্ছে অরেঞ্জ লাইন?
ভর্তুকির টাকা একেবারে না ঢোকার ফলে ক্ষতির পরিমাণ থেকেই যাচ্ছে। ক্ষতির অঙ্ক আগামী দিনেও বজায় থাকলে গ্যাসের দাম নিয়ে নতুন করে বিবেচনা করতে পারে তেল কোম্পানিগুলো। ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলির এলপিজি-সংক্রান্ত বকেয়া ৫৯,০০০ কোটি টাকার বেশি ছিল। গ্যাসের দামের হ্রাস বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। মধ্য প্রাচ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরের কারণে প্রভাবিত হতে পারে গ্যাসের দাম।