নদীয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলের হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান সহ ৩

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের রাতে নদীয়ায় (Nadia) গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক কংগ্রেস কর্মী বাবা এবং তাঁর ছেলের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। নদীয়ার নাকাশীপাড়া এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা। কংগ্রেসের নদীয়ার জেলা সহ সভাপতি আনিসুর রহমান এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। তবে এবার এই ঘটনায় গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, তাঁর স্বামী সহ ৩ জন। তাহলে কি এই খুনের পেছনে হাত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের?

নদীয়ার খুনের ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল প্রধান

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, স্বাধীনতা দিবসের দিন রাতে অর্থাৎ গতকাল রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বেথুয়াডহরির বাজারের পার্টি অফিসে ছিলেন কংগ্রেসের নেতা। সেখান থেকেই গাড়িতে করে বাবা এবং ছেলে বাড়ি ফিরছিলেন। তবে পথে নাগাদি রেলগেটের কাছে পৌঁছতেই তাঁদের উপর হামলা করে কিছু দুষ্কৃতী। এমনকি তাঁদের উপর এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে তারা। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বাবা এবং ছেলেকে। পরে বেথুয়াডহরি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

তবে সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করতেই এবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল তৃণমূলের হরনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি, তাঁর স্বামী এবং সাহেব মুহুরী নামের এক ব্যক্তি। মৃত ওই কংগ্রেস নেতার পরিবারের তরফ থেকে তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি মাটি পাচার সহ বিভিন্ন অভিযোগে ইতিমধ্যেই জেলে রয়েছেন ওই তৃণমূল প্রধান ফতেমা বিবির স্বামী জোব্বার শেখ।

আরও পড়ুন: “কী জন্য করল বুঝলাম না, উনি তো…” আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে বললেন অনুব্রত

সবথেকে বড় ব্যাপার, জেল থেকেই নাকি জোব্বার শেখ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে অভিযোগ। ধৃত দু’জন এবং ওই তৃণমূল নেতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য আদালতে হাজির করানো হয়েছে। এমনকি তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতবিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কারণ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কংগ্রেসের একটু উত্থান হতেই জোব্বার শেখের জনপ্রিয়তা কমছিল। তাই এই অপকর্ম। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছে নিহতদের পরিবার।

Leave a Comment