অনন্যা সরকার, কলকাতা: অবশেষে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা (LPG Crisis) দূর হতে চলেছে দেশবাসীর। ভারতে এলপিজির ঘাটতি রোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে বড় পদক্ষেপ। প্রথমবারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি – উভয় সংস্থার জন্যই এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সংকট দূর করতে ও দেশের ভিতরে এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি কোম্পানির জন্য এলপিজি উৎপাদনের কত লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হল?
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের জারি করা একটি নির্দেশিকায় ২১টি শোধনাগার ও কোম্পানিকে এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে ৬২,৮১০ টন এলপিজি উৎপাদন করতে হবে। এটি ২০২৬ অর্থবর্ষের দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ এবং দেশের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশই পূরণ করবে। এই উৎপাদনের সিংহভাগ দায়িত্বই রিলায়েন্স (Reliance)-কে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮,০০০ টন। নায়ারা (Nayara Energy)-কে প্রতিদিন ৪,৪৮০ টন এলপিজি উৎপাদন করতে হবে। এর পাশাপাশি, ওএনজিসি (ONGC) এবং গেইল (GAIL)-কে ৬,৪৬০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেকের ভারত সফরের আগেই হাসিনার প্রত্যার্পণ, দিল্লির কাছে দাবি ঢাকার
প্রসঙ্গত, আমেরিকা – ইরানের যুদ্ধের আগে, ভারত তাদের এলপিজি চাহিদার ৯০ শতাংশই সৌদি আরব ও কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশ থেকে আমদানি করত। তবে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরোধ করে রাখার ফলে দেশে জ্বালানির আমদানির ওপর প্রভাব পড়ে। ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৯১,০০০ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৩১ লক্ষ টন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রতিদিন ৩৫,৯০০ টন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। আর বাকি ২ কোটি ১৩ লক্ষ টন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল। গত মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় সংস্থাগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। ভারত এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ আরও কিছু দেশ থেকে এলপিজি আমদানি করছে।
আরও পড়ুন: এবার হরমুজ দিয়ে আসবে একের পর এক LPG ট্যাঙ্কার, হল বড় চুক্তি
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রতি ছয় মাস অন্তর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা করা হবে। নতুন রিফাইনারি, নতুন তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্র এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাকেও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এইভাবে, সরকার পশ্চিম এশিয়ায় সংকটের সময় নেওয়া অস্থায়ী পদক্ষেপগুলিকেই একটি স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে দেশীয় গ্রাহকদের অসুবিধায় না পড়তে হয়।
এই সংকটকালে, ওয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলি (OMC) তাদের এলপিজি বন্টন সংক্রান্ত নিয়মকানুনও কঠোর করেছে। আগের শর্তগুলিকে ব্যাপকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিনের ব্যবধানে এবং শহরে ২৫ দিনের ব্যবধানে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং করার অনুমতি রয়েছে। এছাড়া, যেসব গ্রাহকের নামে বা ঠিকানায় দুটি এলপিজি কানেকশন রয়েছে, তার মধ্যে একটিকে বাতিলও করা হয়েছে। সরকার সকল গ্রাহকের জন্য ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং তাদের অ্যাক্টিভ মোবাইল নম্বর আপডেট করা বাধ্যতামূলক করেছে।