সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ (Dearness Allowance) মামলা আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠেছিল। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয় এই মামলা। সেখানে সরকারি কর্মচারী সংগঠন লিখিতভাবে তাদের দাবি জানালেও রাজ্য সরকার জানায়, ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ-র অধিকাংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মচারী সংগঠনের দাবি, এখনও বহু কর্মী বকেয়া ডিএ-র এক টাকাও পাননি।
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার বড় রায়
এদিন রাজ্য সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ডিএ বাবদ ৭৭০০ কোটি টাকার বেশি প্রদান করা হয়েছে। এমনকি বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত মেটানো হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে বাকি বকেয়া পাঠানোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সরকারি কর্মচারী সংগঠন জানায়, এখনও পর্যন্ত বহু কর্মচারী বকেয়ার এক টাকাও হাতে পায়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ ধাপ ধাপে মেটানো যাবে।
তবে দুই পক্ষের যুক্তি শুনে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা এখনও পর্যন্ত ডিএ-র টাকা পাননি, তাদের প্রতিনিধিদের নাম আলাদাভাবে আদালতের কাছে জমা করতে হবে। আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে। এদিন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামীম। তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ৭৭০০ কোটি টাকা নয়, বরং ৪১,৭০০ কোটি টাকার হিসাব দুই বছর আগে দিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। সেই টাকা কর্মীরা এখনও পর্যন্ত হাতে পাননি।
আরও পড়ুন: পরীক্ষা বাতিলে চাকরিহারা হাজার হাজার, আরও চাপে ঝাড়খণ্ডের সোরেন সরকার
পাশাপাশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফ থেকে ভাস্কর ঘোষ জানান, “আমরা সরকারের সঙ্গে একমত নই। ২০১৬ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে যা বকেয়া তার ৪৩ শতাংশ মেটানো হয়েছে মাত্র। ৬৫ শতাংশ নয়।” পাশাপাশি এদিন মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “৫০ শতাংশ ডিএ-র জায়গায় ২৫ শতাংশ করেছে। ব্যাকলগ থেকে ডিএ কেটে নিচ্ছে। আমাদের ১২ শতাংশ ডিএ হয়েছে। সেখানে ২ শতাংশ দিয়ে ১০ শতাংশ কেটে নিয়েছে। আমরা সবমিলিয়ে ৫৭ শতাংশ ডিএ কম পেয়েছি। আমরা সেটা ছেড়ে দেব না।”