বাংলাদেশিকে পঞ্চায়েতের প্রধান করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, শোরগোল মালদায়

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে এ রাজ্যে এসে হয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান (Panchayat Pradhan)। তৃণমূলের আমলে নিযুক্ত হওয়া সেই প্রধানের বিরুদ্ধে এবার মারাত্মক অভিযোগ। ঘটনাটি মালদহের কালিয়াচকের তিন নম্বর ব্লকের গোপালগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েতের এক কংগ্রেস সদস্যের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ওই পঞ্চায়েত প্রধানের নাম এসআইআর-এ বিবেচনাধীন, এবং ভোটার তালিকায় নেই। ভুয়ো নথিপত্র দেখিয়েই তিনি প্রধান হয়েছেন বলে দাবি ওই কংগ্রেস নেতার।

বাংলাদেশ থেকে এসে পঞ্চায়েত প্রধান

সূত্রের খবর, গোপালগঞ্জ পঞ্চায়েতের ওই প্রধানের নাম চেমারি বিবি। ওপার বাংলা থেকে মালদহে এসে এক দালালকে দিয়ে তিনি ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করেছিলেন। এমনকি ভোটে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে জিতে তিনিই এখন প্রধান। যদিও তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দাদু-দিদার জন্ম মালদহেই। আগের প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁর কথায়, “আমার আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, ওবিসি এবং বিয়ের শংসাপত্রসহ একাধিক নথি এখানেই রয়েছে। পরিবারের সবাই আমার এখানে। বিধানসভা নির্বাচনে আমি ভোট দিতে পারিনি। নামের বানান বা অন্য কোনও কারণে আমার নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। বিচারপতির নির্দেশে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।”

অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণ দাসের দাবি, চেমারি বিবি বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। উনি এই দেশের নাগরিক নন। অনাস্থার পর উনি প্রধান হয়েছেন। ১৫ বছর মতো আগে উনি মালদহে এসেছিলেন। ওনার ভোটার কার্ড বাংলাদেশেই রয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেই খবর।

আরও পড়ুন: ইউরেনিয়াম নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, উজবেকিস্তান থেকে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চেমারি বিবির বাবার নাম রফিক। তবে উনি ভারতীয় ছিলেন। আনুমানিক তিন দশক আগে তিনি বাংলাদেশে চলে যান। সেখানেই বিয়ে করে তাঁর চার সন্তানের জন্ম হয়। তবে পরে চেমারি বিবি ভারতে চলে আসেন এবং এখানে এসে উনি বিয়ে করেন। তারপরেই উনি সমস্ত নথি বানিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তিনি প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

Leave a Comment