বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল এক রাম মন্দির (Ram Mandir In Kashmir)। তবে পরবর্তীতে উগ্রবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কোপে পড়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল সেই হিন্দু মন্দিরটি। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে। শুধু তাই নয়, সোপিয়ানের ওই রাম মন্দির জ্বালিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে জমিটিও জবরদখল করে নিয়েছিল অসাধুরা। সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে কাশ্মীরের বুকে নতুন করে রাম মন্দির তৈরি করছেন কাশ্মীরি পন্ডিতরা। শনিবার, সেই মতোই ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন তাঁরা।
কাশ্মীরের বুকে নতুন করে তৈরি হচ্ছে রাম মন্দির
কাশ্মীরের সোপিয়ানে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হিন্দু মন্দির তৈরি করলেও 1987 সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির উপর নেমে এসেছিল অন্ধকারের কালো ছায়া। সেই সময় কাশ্মীরের ‘মুসলিম ধর্মালম্বী’ উগ্রবাদীরা হিন্দুদের রাম মন্দিরটিকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বেধড়ক মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে মন্দিরের জমিটিও দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কাশ্মীরের ইতিহাসে যা অন্ধকার বা রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে একটানা সংগ্রামের পর অবশেষে কাশ্মীরের ঐতিহাসিক অঞ্চলটিতে ভগবান শ্রী রামের মন্দির তৈরি করছেন কাশ্মীরের হিন্দু পণ্ডিতরা। জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব দপ্তর হেরিটেজ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ওই হিন্দু মন্দিরটি তৈরির জন্য আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে। সেই অর্থেই রামের মন্দিরটি তৈরি হবে। শনিবার ধুমধাম করে সেই মন্দির তৈরির সূচনা করলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। এদিন কাশ্মীরের হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষদের পাশাপাশি বহু পন্ডিতকে সঙ্গে নিয়ে একেবারে যজ্ঞ করে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হল রাম মন্দিরের।
Shopian, Jammu and Kashmir: After decades of displacement, Kashmiri Pandits laid the foundation for the reconstruction of the historic Ram Temple in Tak Mohalla, Shopian, with traditional prayers and a havan. The site, which was damaged by arson in 1989 and later encroached upon,… pic.twitter.com/Z3PYqh50Ro
— IANS (@ians_india) August 29, 2026
আরও পড়ুন: পুরী যাওয়ার ট্রেনে জুড়ল অতিরিক্ত কোচ, উৎসবের মুখে সুখবর শোনাল রেল
প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের বুকে নতুন করে রাম মন্দির তৈরি করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, কাশ্মীরের হিন্দু পণ্ডিতরাই কাশ্মীরের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরাই কাশ্মীরের সংস্কৃতি এবং হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনলেন। এ প্রসঙ্গে এক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকারি অর্থে রামের মন্দিরটি তৈরি করে ধুমধাম করে তার উদ্বোধন করা হবে।