অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: রেলপথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে পৌঁছানো যাবে আরও কম সময়ে। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের প্রধান শহরগুলিকে সংযুক্ত করে একটি বুলেট ট্রেন করিডোরের (Bullet Train Corridor) নির্মাণের প্রস্তাব এনেছে রেলমন্ত্রক। এটি বাস্তবায়িত হলে দিল্লি ও লখনউয়ের মধ্যকার ভ্রমণের সময় কমে ২ ঘণ্টা এবং দিল্লি ও পাটনার মধ্যকার সময় কমে ৪.৫ ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রসার এবং প্রধান শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) ভার্চুয়ালি বাহরাইচের নেপালগঞ্জ রোড রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চারটি নতুন ট্রেনের সম্প্রসারণের ঘোষণার সময় এই বিষয়ে জানান।
নতুন বুলেট ট্রেন করিডোরটি কোন কোন অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে চলেছে
এই প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডোরে আগ্রা, লখনউ, কানপুর বারাণসী এবং পাটনার মতো প্রধান শহরগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা এই শহরগুলিকে দিল্লির সাথে সংযুক্ত করবে এবং দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ-বিহার জুড়ে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে দেবে। রেলমন্ত্রী প্রস্তাবিত হাই-স্পিড রেল সংযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, আগামীদিনে দিল্লি থেকে আগ্রা যেতে সম্ভবত ৫৮ মিনিট সময় লাগবে, আর দিল্লি থেকে কানপুর যেতে সময় লাগবে ১.৪৫ ঘণ্টা। এছাড়াও, দিল্লি থেকে প্রয়াগরাজ যেতে লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে, আর দিল্লি থেকে বারাণসী যাওয়া যাবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টাতেই।
রেলমন্ত্রী পাটনা পর্যন্ত প্রস্তাবিত সংযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারে রেলওয়ের পরিকল্পনার কথাও এদিন জানান। নেপালগঞ্জ রোড-নানপাড়া-বাহরাইচ সেকশনে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নবনির্মিত ও বিদ্যুতায়িত ব্রডগেজ রেললাইনের উদ্বোধনের সময়ই এই ঘোষণাটি করেন মন্ত্রী। নতুন এই প্রকল্পটির নির্মাণের টাইমলাইন, আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা আনুমানিক খরচ সর্ম্পকে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি। এটি সম্ভবত মুম্বাই-আহমেদাবাদ করিডোরের পর দেশের বুলেট ট্রেন করিডোরের পরবর্তী পর্যায় হতে চলেছে।
আরও পড়ুন: ৫৭টি টানেল, ২২৬টি সেতু, ১০৮টি বাঁক! পশ্চিমঘাটে বন্দে ভারত ছুটিয়ে রেকর্ড গড়ল রেল
রেলমন্ত্রী সোমবার ১৪২১৩/১৪ বারাণসী-বাহরাইচ এক্সপ্রেস, ১৫১৩১/৩২ বারাণসী সিটি-গোরখপুর এক্সপ্রেস, ৭৫১০৯/১০ গোন্ডা-বাহরাইচ ডেমু ট্রেন এবং ৭৫১১১/১১২ গোন্ডা-বাহরাইচ ডেমু ট্রেন – এই চারটি ট্রেনের এক্সটেনশনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান যে, চারটি ট্রেন চালু করা হয়েছে। এখন এগুলি গেজ পরিবর্তনের ফলে নেপালগঞ্জ, বাবাগঞ্জ, নানপাড়া, মাতেরা, রিসিয়া এবং বাহরাইচ বৃহত্তর রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবে। প্রথম ট্রেনটি বাহরাইচ হয়ে গোন্ডা থেকে নেপালগঞ্জগামী ট্রেনের একটি বর্ধিত অংশ। দ্বিতীয়টি একটি পৃথক যাত্রীবাহী ট্রেন, যা গোন্ডা, বাহরাইচ এবং নেপালগঞ্জের মধ্যে চলাচল করবে।
তৃতীয় ট্রেনটি সংযোগ স্থাপন করবে বারাণসীর সাথে। রেলমন্ত্রীর কথায়, পূর্বাঞ্চলের জন্য বারাণসীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই বাবতপুর, জৌনপুর, মানকাপুর এবং গোন্ডা হয়ে বারাণসী থেকে নেপালগঞ্জ পর্যন্ত এই ট্রেনটি চলবে। আর চতুর্থ ট্রেনটি গোরখপুর থেকে সিদ্ধার্থ নগর, শোহরতগড় এবং বারহ্নি হয়ে তুলসিপুর এবং গোন্ডা হয়ে নেপালগঞ্জ পর্যন্ত চলবে।