পুজোর অনুদান নিয়ে কড়া নজর, এবার পুরনো হিসাব খতিয়ে দেখছে পুলিশ

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন, তারপরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja)। এদিকে পালাবদলের পর বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকারের অধীনে হতে চলেছে দুর্গাপুজো, তাই স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে এই উৎসবকে ঘিরে। কলকাতার বিগ ব্যানারের পুজোগুলোতে কি একইরকম জাঁকজমক থাকবে? এবারেও সরকারের থেকে দেওয়া হবে পুজোর অনুদান (Durga Puja Grant 2026)? তাই সেই নিয়ে কমিটিগুলোর অনুদানের হিসেব খতিয়ে দেখতে বসল পুলিশ।

অতীতের অনুদান হিসেব খতিয়ে দেখবে পুলিশ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্গাপুজোয় ক্লাব কমিটিকে অনুদান দেওয়ার বিষয়ে আগামী সোমবার কলকাতার দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাই প্রতিটি পুজো কমিটি অতীতে অনুদানের টাকা কোন খাতে কত খরচ করেছে, সেই হিসাব নিতে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, একটি থানা এলাকায় যতগুলি দুর্গাপুজো কমিটি অনুদান পেয়েছে, সেগুলির তালিকা তৈরি করতে হবে। খরচের হিসাব যথাযথ কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিকে অনুদানের তালিকা থেকে বাদ তো দেওয়া হবে। অর্থাৎ এর থেকেই ঠিক হবে, সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটি আদৌ অনুদানের টাকা পাবে কিনা।

কী বলেছিলেন শুভেন্দু

অনুদান বিবেচনা নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো না হলেও বেশ বোঝা যাচ্ছে যে আগের মতো আর সব পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হবে না। যদিও আগেই এই নিয়ে একটা আভাস দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “যারা ওই টাকার উপর ভিত্তি করে পুজোর আয়োজন করেন, তাঁরা অনুদান পাবেন। যাদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা পাবেন না।” অর্থাৎ বড় ক্লাবগুলো যে এবার থেকে আর পাবে না পুজো অনুদান সেটা অনেকটাই স্পষ্ট। নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক ধরে তার নীচে যে সব পুজো কমিটির বাজেট থাকবে, অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত ছোট পুজো কমিটিকে কিছু অনুদান দিলেও দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: বাড়ি বাড়ি জ্বলবে আশীর্বাদের প্রদীপ, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বাংলায় মেগা আয়োজন সরকারের

দুর্গাপুজোর আয়োজনে যাতে ক্লাবগুলোকে সমস্যা ভোগ করতে না হয় সেই কারণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০১৮ সালে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রথমবছর রাজ্যের প্রতিটি ক্লাব পেয়েছিল ১০ হাজার টাকা। সরকারি অর্থ এভাবে ব্যয় নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল অনেক। বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি অনুদান। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে পুজোর অনুদান ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করা হয়। সেই হিসাবে ওই বছরে রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ৪৯৮ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এখন দেখার বিজেপি সরকার অনুদান হিসেবে কত টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment