কৃষকদের ৮৬টি কৃষি সরঞ্জামে ৮০% পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার, অনলাইনে শুরু আবেদন

অনন্যা সরকার, বিহার: কৃষিকাজে ক্রমবর্ধমান মজুরি ও উৎপাদন ব্যয়ের মাঝে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর দিল সরকার। কৃষি বিভাগ ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প ২০২৬-২৭’-এর অধীনে কৃষিজীবীদের আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম (Agricultural Equipment) কেনার সুযোগ দিচ্ছে। এর জন্য মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হল অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে জেলার কৃষকরা ৮৬ ধরনের কৃষি সরঞ্জামের ওপর ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি জেলার জন্য প্রায় ৭.৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে লটারির মাধ্যমে সুবিধাভোগী কৃষকদের নির্বাচন করা হবে।

বিহারে শুরু হল কৃষি সরঞ্জাম কেনার জন্য নতুন প্রকল্প

এই প্রকল্পের অধীনে ৮৬ ধরনের কৃষি সরঞ্জাম রয়েছে, যেগুলোর ওপর শ্রেণিভেদে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি মিলবে। কৃষকরা কৃষি বিভাগের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ পোর্টালে https://farmech.bihar.gov.in/  আবেদন করতে পারবেন। প্রকল্পটির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই প্রকল্পের আওতায় লাঙ্গল দেওয়া, বীজ বপন করা, চারা রোপণ করা, আগাছা দমন করা, সেচের কাজ, ফসল কাটা এবং ধান মাড়াইয়ের সরঞ্জামের পাশাপাশি ট্রাক্টর, কাল্টিভেটর, সীড ড্রিল, কম্বাইন হারভেস্টার, পাওয়ার ট্রেলার, হ্যাপি সিডার, রিপার, মাল্টি-ক্রপ থ্রেশারের মতো যন্ত্রপাতিগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, কৃষকরা শ্রেডার, মালচার, স্প্রে মেশিন, পাম্প সেট, স্ট্র রিপার এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা ও মোটর পাম্পের ক্ষেত্রেও ভর্তুকি পাবেন।

এই প্রকল্পের অধীনে, বিভিন্ন শ্রেণীর সরঞ্জাম এবং সেন্টার স্থাপনের জন্য বিভিন্ন অনুদানের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি ড্রোন সেন্টার স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে, যেখানে একটি কাস্টম হায়ারিং সেন্টারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। আবার, একটি কৃষি সরঞ্জাম ব্যাংক স্থাপনের জন্য ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করবে সরকার। একটি বিশেষ কাস্টম হায়ারিং সেন্টারের জন্য সর্বোচ্চ ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান মিলবে। 

আরও পড়ুন: বদলে গেল কৃষক বন্ধু প্রকল্পের স্ট্যাটাস, চেক করুন এখনই, রইল প্রসেস

অনলাইনে আবেদনের পর, লটারির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কৃষককে একটি অনুমতিপত্র দেওয়া হবে, যা ১৫ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সরঞ্জাম কেনা না হলে, অনুমতিপত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। কৃষককে সরঞ্জামের সম্পূর্ণ মূল্য দিয়েই সেটি কিনতে হবে, কেনার পরে ভর্তুকির টাকা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। কৃষকরা যেকোনো জায়গা থেকেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই প্রকল্প সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেতে যোগাযোগ করতে হবে ব্লক কৃষি কর্মকর্তা বা জেলা কৃষি প্রকৌশল অফিসে।

Leave a Comment