সহেলি মিত্র, কলকাতা: প্রতিদিনের কাজ ও ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে মানুষ হাপিয়ে উঠেছেন। খুঁজছেন মুক্তির পথ। সেক্ষেত্রে দু’দিনের ছুটি হাতে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার থেকে ভালো অপশন কিছু হতেই পারে না। সামনেই রয়েছে দুর্গাপুজো, ইতিমধ্যে কাউন্টাডাউন শুরু করে দিয়েছেন সকলের। কেউ চাইছেন নিজের এলাকার মধ্যে থেকে হৈ হুল্লোড় করতে তো আবার কেউ চাইছেন পুজার কয়েকটা দিন একটু নিরিবিলিতে কোথাও কাটিয়ে আসতে। আপনিও কি পুজোয় একটু কোলাহল ছেড়ে কোথাও শান্ত জায়গায় ঘুরে আসতে চাইছেন কিন্তু ভালো ডেস্টিনেশন পাচ্ছেন না? তাহলে আপনার সেই মুশকিল আসান হতে চলেছে। ঘুরে আসতে পারেন সুন্দর পাহাড়ি জায়গা ‘ঝালং’ (Jhalong) থেকে।
পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন ঝালং
এই ঝালং-এ রয়েছে অসংখ্য সুন্দর কিছু হোমস্টে। তার মধ্যে যে কোনও একটা বসে নিরিবিলিতে দু’দিন অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারবেন। ঝালং হল কালিম্পং অঞ্চলের একটি শান্ত অফবিট গ্রাম যা প্রকৃতি প্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এখানে প্রকৃতির কোলে নিজেকে হারিয়ে ফেলে শহরের একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পারেন। শিলিগুড়ি থেকে কিছুটা দূরে, জালঢাকা নদীর পাশে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি ভুটান সীমান্তের বেশ কাছাকাছি। এই ঝালং-এর অন্যতম আকর্ষণ হল জালঢাকা নদীর উপর অবস্থিত হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্প।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার কাছেই রয়েছে এক রহস্যময় সৈকত, যেখানে সমুদ্র হারিয়ে যায় ১০ কিমি অবধি
ভারতের প্রথম হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম এই জায়গা ভুটানে যাওয়ার পথের একটি ব্রিজ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আর এই জালঢাকা নদীর বড় জলাধারটি ইউরেশিয়ান রাইনেক থেকে শুরু করে ক্রেস্টেড কিংফিশার, ব্রাউন ডিপার, হজসনের রেডস্টার্ট, সল্টি-ব্যাকড ফর্কটেল মত বহু পাখির দেখা মেলে এই জায়গায়। ঝালং নদীর ধারে অবস্থিত কিছু হোমস্টে থেকে আপনি সরাসরি নদীর স্নিগ্ধতা এবং আশেপাশের সবুজ পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
কীভাবে যাবেন?
এবার নিশ্চয়ই ভাবছেন এত সুন্দর জায়গায় পৌঁছাবেন কীভাবে? সেক্ষেত্রে এনজেপি থেকে ঝালং-এর দূরত্ব প্রায় ৯৯ থেকে ১০২ কিমি। রিজার্ভ গাড়িতে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘণ্টার মত।