ভারতকে একসাথে ১০১টি ধাক্কা দিতে পারে বাংলাদেশ! প্রস্তুতি ঢাকার

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতকে (India) বড় ধাক্কা দিতে পারে বাংলাদেশ (Bangladesh)! ওপার বাংলার গত সরকারের সাথে হওয়া নয়া দিল্লির বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক চুক্তিগুলি নতুন করে পর্যালোচনা করছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত 101টি চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। প্রয়োজন হলে সেগুলি বাতিল করাও হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি! আর তাতেই মনে করা হচ্ছে, একসাথে 101টি ধাক্কা খেতে পারে নয়া দিল্লি!

ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি বাতিল করবে বাংলাদেশ?

সম্প্রতি, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের পর সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম খুব পরিষ্কারভাবে জানান, ভারতের সাথে পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার চুক্তির আওতায় বন্ধু দেশের জাহাজ চলাচল এবং ওই চুক্তি বাতিল করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চুক্তিগুলো মানে 101টি মউ নিয়ে আলোচনা করছি এবং তার ফলাফল খুব শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে।”

এদিন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এও জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে  অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই সবার আগে। তাঁর দাবি, জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রেখে তারেক রহমানের সরকার বিগত দিনগুলিতে একাধিক অনৈতিক চুক্তি বাতিল করেছে। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে যেহেতু চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জাহাজের তুলনায় বিদেশি জাহাজকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তাই সে দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এবার নাকি পদক্ষেপ করবে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার।

আরও পড়ুন: কানাডায় ভাড়াটেকে গরুর মাংস খেতে বাধা, গ্রেফতার ভারতীয়

ওপার বাংলার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে চলতি ব্রিকস সম্মেলনে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা থাকলেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোয় নাকি যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার! এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। তাঁর দাবি, “তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় বরং বিমস্টেকের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” মনে করা হচ্ছে, এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবার ওপার বাংলার স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভারতের সাথে বেশ কিছু চুক্তি থেকে সরেও আসতে পারে তারেক সরকার! তবে শেষ পর্যন্ত যদি সেটা হয় তাতে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কে আবার চিড় ধরবে সে কথা বলাই যায়!

Leave a Comment