সহেলি মিত্র, কলকাতা: যত সময় এগোচ্ছে ততই হু হু করে দাম বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের। চাল, ডাল ডিম, মাছ মাংস থেকে শুরু করে তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে গিয়েছে গত কয়েক মাসে। তবে এখানেই শেষ নয়, এবার দাম বাড়ল কেরোসিন তেলের (Kerosene Oil Price)। আপনিও যদি প্রতি মাসে রেশনে কেরোসিন তেল তোলেন তাহলে আপনার জন্য রইল আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি।
দাম বাড়ল কেরোসিন তেলের
জানা গিয়েছে, রেশনে লিটার প্রতি কেরোসিন তেলের দাম এক ধাক্কায় ৬ টাকা অবধি বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এই তেলের দাম এতটা বেড়েছে বলে খবর। আসলে মাসে ১০ শতাংশ অবধি দাম বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রক চিঠি দিয়ে তেল সংস্থাগুলিকে কেরোসিনের দাম বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে শর্ত, মাসে দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না এবং প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধির বিষয় মন্ত্রককে জানাতে হবে। অনুমোদনের পর ১২ সেপ্টেম্বরের পর কেরোসিনের ইস্যু প্রাইস লিটারে প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে। ফলে চলতি মাসে পশ্চিমবঙ্গে রেশনে কেরোসিনের দাম হতে পারে লিটারপ্রতি ৭১-৭২ টাকা। এতে নিম্নবিত্ত মানুষের উপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি কেরোসিনের বিক্রিও আরও কমতে পারে।
বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
তেল সংস্থাগুলি কয়েক মাস ধরেই দাম বাড়ানোর অনুমতি চাইছিল। তাদের দাবি, কেরোসিন বিক্রিতে লিটারে প্রায় ৪০ টাকা লোকসান হচ্ছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, কোম্পানির খরচ না ওঠা পর্যন্ত ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে লিটারে ২৫ পয়সা করে কেরোসিনের দাম বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র।
সম্প্রতি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে হাহাকারের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকার কেরোসিন-মুক্ত ঘোষিত অঞ্চলগুলি সহ ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে অস্থায়ীভাবে গণবণ্টন (পিডিএস) কেরোসিন বিতরণের অনুমোদন দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল, বিশেষ করে এলপিজির প্রাপ্যতা প্রভাবিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক গত ২৯শে মার্চ একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইন এবং ২০০২ সালের পেট্রোলিয়াম বিধিমালার অধীনে অস্থায়ী অব্যাহতি প্রদান করে।মূলত ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন রান্না ও আলো জ্বালানোর কাজে সাময়িকভাবে কেরোসিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বামেদের চ্যালেঞ্জ! বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর
এর মধ্যে সেই ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত, যারা আগে গণবণ্টন (PDS) কেরোসিন বিতরণ পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দিয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় সরকারি তেল বিপণন কোম্পানির সর্বোচ্চ দুটি নির্ধারিত সার্ভিস স্টেশনকে-বিশেষত কোম্পানির মালিকানাধীন ও পরিচালিত আউটলেটগুলোকে-নিরাপত্তা শর্ত সাপেক্ষে ৫,০০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত করার অনুমতি দেওয়া হবে।