অনন্যা সরকার, কলকাতা: দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি তখন মাঝ আকাশে প্রায় ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, হঠাৎই ককপিটে শুরু হয় হাতাহাতি। সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার (Smit Machchhar) রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবুও, সেই গুরুতর অবস্থাতেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েননি, উপস্থিত বুদ্ধির জোরে খুলে ফেলেন ককপিটের দরজা। তিনজন যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ছুটে যান, আক্রমণকারীকে কাবু করেন এবং হেডফোনের তার দিয়ে বেঁধে তাকে কব্জায় আনেন। সেই অবস্থায় প্লেনটিকে পড়ে যেতে না দিয়ে অসম্ভব মনোবল ও সাহসের পরিচয় দেওয়া ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ধন্য ধন্য করছে আজ বিশ্ববাসী। পাশাপাশি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও সহ-পাইলট কীভাবে বিমানের মধ্যে ধারালো অস্ত্র জোগাড় করলেন?
আসলে কী ঘটে ককপিটে?
বুধবার সকালে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 ছাড়ার পর মাঝ-আকাশে ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে। যে তিনজন যাত্রী পাইলট স্মিতকে বাঁচাতে ককপিটে ছুটে গিয়েছিলেন, তাঁদের পরিচিতি সামনে এসেছে। তারা হলেন জভিকা মানেস, আসাফ রাজওয়ান এবং ইয়ানিভ হায়ুন। এঁরা সকলেই ইসরায়েলি নাগরিক। গুরুতর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার মুহূর্তেই তারা আক্রমণকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে সবার মনেই এই প্রশ্নটি বারবার ঘোরাফেরা করছে যে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ওমানি সহ-পাইলট কীভাবে একটি অস্ত্র জোগাড় করে ফেললেন বিমানের মধ্যে। তদন্তকারী দল জানিয়েছে যে, তিনি বিমানে কোনও অস্ত্র চোরাচালান করে আনেননি, বরং তিনি তার সহকর্মীকে আক্রমণ করার জন্য ককপিটের ভেতরে রাখা একটি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’, অর্থাৎ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাথে রাখা কুড়ুলটি ব্যবহার করেছিলেন। যদিও প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে, ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ব্যবহৃত অস্ত্রটি আসলে অগ্নিনির্বাপক কুড়ুলটিই ছিল।
আরও পড়ুন: “ভারত যদি চায় আমরা তাদের উপর হামলা করি, তাহলে সেই ইচ্ছে পূরণ হবে” জানিয়ে দিল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের বিধি অনুসারে, বিমান তৈরির সময়ই এতে একটি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ রাখা থাকে। প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমানে এর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আগে কুড়ুলগুলো রাখা থাকতো বিমানের মূল কেবিনে, কিন্তু ৯/১১ হামলার পর সেগুলোকে ককপিট অর্থাৎ বিমানের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সরিয়ে আনা হয়, যাতে সেগুলো পাইলটদের নাগালের মধ্যে থাকে। আর এই কুড়ুল দিয়ে আঘাত করেই গুরুতর বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়তে যাচ্ছিল ১৭০ টি প্রাণ।