বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পুলিশি তদন্তের মিডিয়া রিপোর্টে সম্মানহানি করা হচ্ছে এমন দাবি নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । আদালতে অভিষেকের আইনজীবী বলেছিলেন, অভিষেকের অধিকার রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে সেটা নিশ্চিত করা। তদন্তের অগ্রগতি বা পুলিশের তল্লাশি অভিযান সংক্রান্ত সবকিছু মিডিয়ার সামনে আনা বাঞ্ছনীয় নয়। আদালত মিডিয়ার রিপোর্টে লাগাম টানুক। তৃণমূল সাংসদের এমন আবেদন রাখেনি কলকাতা হাইকোর্ট।
উপযুক্ত বেঞ্চে মামলার পরামর্শ দিলেন বিচারপতি
কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে না আনার। এদিকে তদন্তের অগ্রগতি থেকে শুরু করে পুলিশের তল্লাশি অভিযান সবটাই মিডিয়ার সামনে চলে আসছে। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। কিছু তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রাইভেট মিডিয়া এই ধরনের তথ্য বাইরে আনছে বলেও জানান অভিষেকের আইনজীবী।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানহানি হচ্ছে বলে দাবি করতে গিয়ে আইনজীবী মারফত অভিষেক জানান, “আমার একটা রেপুটেশন আছে। স্ক্যান্ডালাইজ করতে তথ্য সামনে আনা হচ্ছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে। এর জন্য একটা সঠিক গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন। তদন্তকারীরা আমাকে কী জিজ্ঞেস করেছেন সেটাও সামনে আনা হচ্ছে। মিডিয়া আমার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেন করছে। কিছু তদন্তকারী সংস্থা আমার তথ্য ফাঁস করছে। আমার সম্মানহানি করে ফুটেজ তৈরি হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: আইন ভেঙে হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারদের নিয়োগ? সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর তরফে সমস্ত বক্তব্য শোনার পর গোটা মামলায় হস্তক্ষেপই করেনি কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অভিষেকের আবেদন খারিজ না করলেও তিনি জানান, “এই মামলায় আদালত কি হস্তক্ষেপ করবে? এটা হাইকোর্টের এক্তিয়ারের বাইরে। পুলিশ সম্পর্কিত বিষয় হলেই আদালত সেই মামলা শুনতে পারে না। আমি মামলাটা সরাসরি খারিজ করে দিচ্ছি না। আপনাদের বলতে চাই উপযুক্ত বেঞ্চে গিয়ে মেনশন করুন।” এক কথায় বলতে গেলে, কলকাতা হাইকোর্টে নিজের সম্মানহানি নিয়ে আবেদন করে ধাক্কা খেলে না অভিষেক।