আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নিজের বাড়িতে হামলার ঘটনায় সমাজমাধ্যমে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’দের দায়ী করে পোস্ট করেছিলেন সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সেই পোস্ট থেকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ (Hindutwawadi) শব্দটি মুছে ফেলার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি বিকাশরঞ্জন। বরং হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ববাদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister) দাবির যৌক্তিকতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কোথা থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত?
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার সকালে। কলকাতায় যাদবপুরের কাছে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে এক ভয়ংকর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, মুখ ঢাকা অবস্থায় বাইকে করে আসা এক ব্যক্তি বাড়ির জানলায় মদের বোতল ছোড়েন। সেই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে হামলাকারীদের ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেন বিকাশরঞ্জন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলের তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ মানতে নারাজ আইনজীবী
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিকাশরঞ্জনের মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্তে স্পষ্ট নয়। তাই প্রমাণ পাওয়ার আগেই কোনও বিশেষ মতাদর্শের লোকজনকে দায়ী করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিকাশরঞ্জনকে নিজের পোস্ট সংশোধন বা ওই শব্দটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় দেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন।
এদিকে, হামলার ঘটনায় বাপ্পা গুছাইত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ধৃত ব্যক্তি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি বিকাশরঞ্জনের সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরেও পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। গরফা ও কসবা থানায় তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই মুহূর্তে বিতর্কের অন্যতম বিষয় হলো মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও পোস্ট থেকে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি সরাননি বিকাশরঞ্জন। তাঁর বক্তব্য, হিন্দুত্ববাদ এবং হিন্দু ধর্ম এক বিষয় নয়। হিন্দুত্ববাদকে তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, বাড়িতে হামলার ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণ রয়েছে। তাই নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার আদেশ তিনি মানতে নারাজ।
আরও পড়ুন: বাংলার দুর্গাপুজোয় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ উলুধ্বনি? জানুন আসল রহস্য
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির জবাবে বিকাশরঞ্জনের প্রশ্ন, তাঁর পোস্ট থেকে ওই শব্দ সরানোর নির্দেশ দেওয়ার অধিকার মুখ্যমন্ত্রী কোথা থেকে পেলেন? তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যবস্থা নিতে হলে তা আইন মেনেই নেওয়া হোক। ফলে বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শুধু অভিযুক্তদের পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, ‘হিন্দু’ ও ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দের অর্থ এবং রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে।