সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যে কলকাতা পুরসভা একসময় সবুজে সবুজ থাকত, সেখানে এখন হ্যারিকেন জ্বালিয়ে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না মমতার তৃণমূল। ভোটে ভরাডুবির পর শিরেসংক্রান্তি অবস্থা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান, অন্যদিকে নির্বাচনে লড়া নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মনোনয়ন পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন মমতার প্রার্থী। অন্যদিকে কোনও মতে লড়াই করে হাজার তিনেক মতো ভোট পেয়েছিলেন রেজিনগরের প্রার্থী। তবে পুরভোটে (KMC Election) লড়াই ঠিক কীভাবে হবে, তা নিয়ে চিন্তিত কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat Trinamool)।
পুরভোটে প্রার্থী খুঁজতে হাহাকার মমতা শিবিরের
পুজো কাটলেই পুরভোট। পুরসভা দখল করতে একেবারে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি। যেখানে একটা সময় পুরসভার ভোটে প্রার্থী হওয়া নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে লড়াই লাগত, সেখানে এখন উল্টো চিত্র। নির্বাচনে পরাজয়ের পর বদলে গিয়েছে সবকিছু। তৃণমূলের নাম, প্রতীক তো হাতছাড়া হয়েছেই মমতার, তার পাশাপাশি সিংহভাগ কাউন্সিলর পদত্যাগ করে হয় বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, না হয় রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে চিন্তায় মমতার শিবির।
এবার কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। একসময় ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টি ছিল ঘাসফুলের হাতে। যেখানে বিজেপির ছিল মাত্র ৩টি। ২০২১-এ তৃণমূল প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের সমর্থন পেলেও বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ ৪১ হাজার ভোট। তবে এখন সেই চিত্র উল্টো। কলকাতার শুধু চারটি বিধানসভা তৃণমূলের দখলে। সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে মমতা লড়াইয়ে নামবেন, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
আরও পড়ুন: ফিরল সবুজ সাথীর চিত্র, অনলাইনে দেদার বিক্রি হচ্ছে সারথি প্রকল্পের সাইকেল
বর্তমানে কলকাতা শহরে তৃণমূলের নাম-নিশানা চোখে পড়ে না বললেই চলে। হামলা, ধরপাকড়ের জেরে এমনিতেই রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। পাশাপাশি বহু এলাকায় পার্টি অফিস বন্ধ এবং কর্মীরাও এলাকা ছাড়া। পদত্যাগ করেছেন প্রায় শতাধিক কাউন্সিলর। বলতে গেলে ২০৯-এর মধ্যে ৯০ শতাংশ আসনে এবার নতুন করে প্রার্থী দিতে হবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু প্রার্থী কে হবেন তা নিয়েই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।