আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সঙ্গে বাঙালির আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন দীর্ঘদিনের। সেই পুজোরই পরিচিত একটি উপকরণ ধুনুচি। এছাড়া যে কোনও পুজোতেই একটি পবিত্র পাত্র হিসেবে ধুনুচিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবার সেই ধুনুচির (Dhunuchi) মধ্যে মাংস (Meat) রেখে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সানন্দা (Sananda) নামে একটি ফেসবুক পেজে খাবারদাবার সংক্রান্ত একাধিক ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। সেই ছবিগুলির মধ্যে একটি ছবিতে মাংস রাখা একটি ধুনুচি দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসতেই ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানান অনেকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেবমাল্য ঘোষ নামে এক ব্যক্তি, যিনি এই পোস্টের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত
নিজের ফেসবুক পোস্টে দেবমাল্য ঘোষ লেখেন, ছোটবেলা থেকে ধুনুচিকে পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখে এসেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ধুনুচি সাধারণত ঠাকুরঘর ও পুজোর সঙ্গে যুক্ত একটি উপকরণ। সেখানে মাংস রেখে ফটোশুট করার বিষয়টি তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত। তাঁর অভিযোগ, পুজোর মূল ভাবনার পরিবর্তে খাবারদাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা থেকেই এই ধরনের ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সানন্দার পোস্টের সমালোচনা করেন এবং সনাতন হিন্দু ধর্মের রীতিনীতিকে সামনে রেখে এমন আচরণের চরম নিন্দা করেন।
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী যখন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ এবং তার আশপাশে আমিষ খাবার না রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন, তখন সেই বক্তব্য ঘিরে যে সমালোচনা হয়েছিল, তারও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একদিকে ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে আপত্তি জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে পুজোর সঙ্গে যুক্ত উপকরণকে এভাবে খাবার পরিবেশনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বাঙালির দুর্গাপুজোয় ধুনুচি কেবল একটি মাটি বা পিতলের পাত্র নয়, বরং পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পরিচিত প্রতীক। ধুনুচিতে ধুনো ও জ্বলন্ত নারকেলের ছোবড়া ব্যবহার করে আরতি করা হয়। ধুনুচি নাচও দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। ফলে এই উপকরণকে এমন অসম্মানজনকভাবে ব্যবহার করে ছবি তোলার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
আরও পড়ুন: পুজোয় দুপুরের ভোজ হোক জমজমাট! বাড়িতেই বানান চিকেন দরবারি, রইল রেসিপি
বিতর্ক আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই সানন্দা ফেসবুক পেজের তরফ থেকে ধুনুচির মধ্যে মাংস রাখা ছবিটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে পোস্টটি মুছে ফেলার বিষয়ে পেজটির তরফে কোনও ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সমালোচকদের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে কোনও ছবি বা সৃজনশীল উপস্থাপনা প্রকাশ্যে আনার আগে তার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং মানুষের ধর্মীয় আবেগের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা উচিত।