আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: চোরবাগান (Chorbagan) সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High court)। রাজ্য সরকার (West Bengal Government) নিজেদের পছন্দমতো একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
কেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন?
চোরবাগানকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব নিয়ে রাজ্যের আবেদনের বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের তরফে কর্মরত কোনও বিচারপতিকে কমিশনের শীর্ষে বসানোর জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং হাইকোর্টে বিচারপতির সংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে এই কমিশন গঠন করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। পরিবর্তে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, তদন্ত কমিশনের জন্য কর্মরত বিচারপতিকে মনোনীত করার অনুরোধ জানানোয় তাঁর মনে হয়েছে, রাজ্য সরকার বিষয়টির তদন্ত করতে আগ্রহী। তাই রাজ্যকে তদন্তের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মণ্ডপের নকশা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
শুনানিতে জনস্বার্থ মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মণ্ডপের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজো কমিটিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি এ বছর অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগের বছরগুলিতে ভিড় সামলাতে পুলিশ নজরদারি চালিয়েছিল, এ বছর মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল? সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মণ্ডপের নকশা, পর্যাপ্ত আলো এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থার অভাব নিয়েও অভিযোগ ওঠে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না এবং প্রশাসনের ভূমিকা কতটা ছিল, তদন্তে সেই প্রশ্নগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তভার নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কাছে থাকা এগজিট গেটের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল আগরওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে মোট ৩০টি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় কীভাবে ভিড়ের চাপ বাড়ল, আতঙ্ক ছড়ানোর ক্ষেত্রে মাইকে ঘোষণা করে সতর্ক করার কোনও ব্যবস্থা ছিল কি না এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছিল কি না, সেগুলিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের জন্য সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই বিপর্যয়ের পরে আহতদের চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সোমবার ১০ জন আহতকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০০ বছর পর জেলায় দেখা গেল বাঘ, বনদপ্তরের ক্যামেরার ট্র্যাপে পড়ল ধরা
এদিকে, স্বাস্থ্য ভবন কলকাতার পাঁচটি বড় পুজো মণ্ডপে মেডিক্যাল টিম রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে এনআরএস, টালায় আর জি কর, কলেজ স্কোয়ারে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, একডালিয়া এভারগ্রিনে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং চেতলা অগ্রণীতে এসএসকেএমের চিকিৎসক দল থাকার কথা। বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ওই দলগুলি পরিষেবা দেবে বলে জানানো হয়েছে। এই সমস্ত কিছুর উদ্দেশ্য একটাই, এই মর্মান্তিক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।