আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হুগলির (Hooghly) বৈদ্যবাটিতে (Baidyabati) প্রাচীন ভদ্রকালী মন্দিরে (Bhadrakali Temple) চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকা। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে মন্দিরের পিছনের জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে বিগ্রহের অলঙ্কার এবং প্রণামী বাক্সে জমা টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মা ভদ্রকালীর গয়না, হাতের খাঁড়া এবং রাধাবল্লভ ও রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহের অলঙ্কার। পাশাপাশি প্রণামী বাক্স থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এমন ঘটনায় উদ্বেগে এলাকাবাসী
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে, বৈদ্যবাটির ১০ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন ভদ্রকালী মন্দিরে। রবিবার সকালে চুরির বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মন্দিরের এক কর্মী জানান, “কোনও কিছুই বাকি রাখেনি চোরেরা, মায়ের মুণ্ডমালাটাও নিয়ে গেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালনাধীন এই মন্দিরে একজন পুরোহিত থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শনিবার রাত ১১টা নাগাদ তিনি ঘুমোতে চলে যান। সেই সময় পর্যন্ত মন্দিরে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। অনুমান, এরপরই মন্দিরের পিছনের দিকের একটি জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে চোর। বিগ্রহগুলির অলঙ্কার খুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রণামী বাক্সের টাকাও নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঠিক কখন চুরির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানার অধীন শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মন্দির চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাতিল সরকারি কর্মীদের ছুটি, বন্ধ স্কুল-কলেজ! ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের
এই ভয়ংকর ঘটনায় ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে মন্দিরে ঢুকে এতগুলো সামগ্রী নিয়ে পালাল দুষ্কৃতী, এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।