সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone) রূপ নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর। এর ফলে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি এবং সতর্কতা। সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখেই সরকারের তরফ থেকে সমস্ত শীর্ষ কর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং একাধিক জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় বড় পদক্ষেপ সরকারের
জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে ওড়িশা প্রশাসনের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সমস্ত আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে। এমনকি নির্দেশিকা জারির পর তাঁদের অবিলম্বে নিজ নিজ দফতরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আগামী ২৮ এবং ২৯ অক্টোবর ওড়িশার বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল জেলায় সমস্ত স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিচু এলাকাগুলির মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকদের উপর দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপটি অত্যন্ত তীব্র একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এমনকি এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।।আর মাঝে মাঝে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মুম্বাই থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে মৃত্যু ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তির, তারপর যা হল….
ওড়িশার গোপালপুর থেকে এর সম্ভাব্য ল্যান্ডফলের দূরত্ব আনুমানিক ৩০০ কিলোমিটার হলেও রাজ্যের দক্ষিণ উপকূলীয় জেলাগুলিতে এর প্রভাব পড়তে পারে গুরুতর। এমনকি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে গঞ্জম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট, মালকানগিরি ইত্যাদি। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় আনুমানিক ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখেই বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের।