প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্কুলের মধ্যেই সংসার পাতলেন এক মহিলা, গরু ছাগল নিয়ে টানা তিন বছর ধরে ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) একটি স্কুলে বসবাস করছেন তিনি। আর তার জেরেই ব্যাহত হচ্ছে পড়ুয়াদের পড়াশোনা, অস্বস্তিতে পড়েছেন শিক্ষিকারাও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে (Woman Living in Diamond Harbour School) এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
স্কুলের মধ্যেই সংসার মহিলার
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে রবীন্দ্র নগর এলাকার অন্তর্গত রবীন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ, টানা তিন বছর ধরে ওই স্কুলের দোতলায় রনিতা হালদার নামের ৬০ বছর বয়সী এক মহিলা গরু এবং ছাগল নিয়ে রীতিমতো সংসার পেতেছেন। এদিকে তাঁর এই বসবাসের জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পঠনপাঠন প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, ওই মহিলার বসবাস করা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ সহ অভিভাবকরা।
আরও পড়ুন: পাত্রের বয়স ৪২, পাত্রী মাত্র ১৮! মুর্শিদাবাদে আজব বিয়ে ঘিরে তুমুল চর্চা স্থানীয়দের
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি পৌরপ্রধান
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে সেতু নির্মাণের জন্য তৎকালীন তৃণমূলের পৌরপ্রধান মীরা হালদার ওই মহিলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তার ভেঙে যাওয়া বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এবং ততদিন তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল রবীন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু অভিযোগ দীর্ঘ ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। এমনকি এই বিষয়ে পরে হস্তক্ষেপ করেননি ওই পৌরপ্রধান এবং তৃণমূলের কাউন্সিলররা। আর সেই কারণে স্কুলেই সংসার পাততে বাধ্য হলেন ওই মহিলা।
গুরুতর অভিযোগ শিক্ষিকাদের
শিক্ষিকাদের অভিযোগ, ”স্কুল একটি পড়াশোনার জায়গা, কিন্তু এখানে পড়াশোনার পরিবেশ সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে দোতলায় থাকা ওই মহিলার জন্য। বিভিন্ন সময়ে ওই মহিলার কথাবার্তাকে কেন্দ্র করে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সকলকে।” শুধু তাই নয়, ওই মহিলাকে বারংবার স্কুল ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও ৬০ বছর বয়সী রনিতা হালদারের একটাই দাবি যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বাসস্থানের জায়গা করে দিচ্ছে ততদিন তিনি এই স্কুলেই থাকবেন। একদিকে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: ফেরাতে হবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, মেডিক্যাল ভাতা! সরকারের নির্দেশ নিয়ে যা বলছেন শিক্ষকরা
স্থানীয়দের তরফেও তৎকালীন সরকারের প্রতি একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। ঠিকঠাক সরকারি পরিষেবা না পাওয়া নিয়ে অনেকেই তৃণমূল কাউন্সিলর এবং পৌরপ্রধানের দিকে আঙুল তুলছেন। এখন দেখার প্রশাসন এই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কারণ একদিকে পড়ুয়াদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে ওই মহিলার বাসস্থানের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা খুব জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।