বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ 35 বছর তাঁকে জেলে আটকে রেখেছিল পাকিস্তান (Pakistan)। মাথায় ছিল মৃত্যুদণ্ডের সাজা। তবে সেই সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক বন্দি থাকার পর দেশে ফিরেছিলেন ভারতের নাগরিক কাশ্মীর সিং (Kashmir Singh)। সেটা অবশ্য 2008 এর কথা। সে বছরের মার্চ মাসে ওয়াঘা সীমান্ত সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরেছিলেন তিনি। জানা যায়, পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ ক্ষমা করে দেওয়ার পরই জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন কাশ্মীর।
গায়ের জোরে ভারতীয় গুপ্তচরকে আটকে রেখেছিল পাকিস্তান?
সালটা 1973। মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছদ্মনামে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন কাশ্মীর সিং। বলে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর পাঞ্জাব পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন কাশ্মীর। সেই কাজের সূত্রই ছদ্ম নামে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ভারতীয় গুপ্তচর। কয়েকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক হন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। পরে পাক সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল।
যদিও, কাশ্মীর সিং প্রথমদিকেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। যার জেরে পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলে দীর্ঘ 35 বছর বন্দি থাকতে হয়েছিল এই ভারতীয়কে। স্বামী বছরের পর বছর পাকিস্তানে জেলে দিন কাটানোয় সন্তান নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল কাশ্মীর সিংয়ের স্ত্রী এবং পরিবারকে। একটা সময় ওই ভারতীয়র পরিবার ধরেই নিয়েছিল কাশ্মীরের মৃত্যু হয়েছে। তবে 1986 সালে পাকিস্তানের জেল থেকে কয়েকজন ভারতীয় মুক্তি পাওয়ার পরই কাশ্মীর পরিবার জানতে পারে সে জীবিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ মাস ধরে পাকিস্তানে আটকে রাখা হয়েছে ৬ জন ভারতীয় নাবিককে, দেওয়া হচ্ছে না খাবারও!
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ভারতীয়কে একেবারে গায়ের জোরে জেলে আটকে রেখেছিল পাকিস্তান! তবে 2008 সালে পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী আনসার বার্নি লাহোরের জেলে কাশ্মীর সিংয়ের আটকে থাকার খবর জানতে পারেন। আর তারপরেই ওই ভারতীয়র মুক্তির জন্য উদ্যোগী হন তিনি। গোটা বিষয়টি পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফকে জানান ওই মানবাধিকার কর্মী। পরবর্তীতে প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রপতি কাশ্মীর সিংকে ক্ষমা করে দিলে পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরেন তিনি। বলে রাখা প্রয়োজন, একটা সময় কাশ্মীর নাকি নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি ভারতীয় গুপ্তচর!