বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দেশে দারিদ্র্য কমছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের (Narendra Modi) এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারেন না অনেকেই। বর্তমান সরকারের (Modi Government) আর্থিক নীতি নিয়েও প্রতিনিয়ত চলছে সমালোচনা। নিন্দুকদের দাবি, বিজেপি সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে! ভারতের বুকে আছড়ে পড়তে পারে অর্থনৈতিক সুনামি। তবে দেশের অভ্যন্তরে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা হলেও বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট কিন্তু অন্য কথা বলছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি জামানাতেই ভারতে দ্রুত কমেছে দারিদ্রতা।
মোদি জামানায় কমছে দারিদ্র্য
দেশের অর্থনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আস্থা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির তরফে করা সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, 2011-12 আর্থিক বছর থেকে শুরু করে 2023-24 আর্থিক বছরে ভারতে দারিদ্র সীমার উপরে উঠেছে অন্তত 49.6 কোটি মানুষ। অর্থাৎ প্রায় 50 কোটি মানুষ দারিদ্রতার সীমানা পেরিয়ে আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল হয়েছেন। মূলত 2021 সালে ভারতের রোজগার এবং ক্রয় ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক।
বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, 2011 সালে অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদির সরকার আসার আগে ভারতে প্রায় 58 শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। 2023 সালে পৌঁছে সেই পরিমাণটা নেমে দাঁড়ায় মাত্র 16.1 শতাংশে। ওই রিপোর্টেই আরও বলা হচ্ছে, ভারতের যে সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিনের আয় 400 টাকা, তাঁদের দরিদ্র বলা যাবে না। এই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি জামানাতেই ভারতের গরিবি কমেছে!
আরও পড়ুন: বদ্রিনাথ থেকে ফেরার পথে ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার, নিখোঁজ চালক সহ প্রত্যেকে
অন্যদিকে ভারতে অতি দারিদ্র্যের সংখ্যাটা বিগত 12 বছরে 27.1 শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় কমে মাত্র 2.6 শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, ভারতে যে সমস্ত ব্যক্তিদের দৈনিক আয় ন্যূনতম 285 টাকা বা তার থেকে বেশি, তাঁদের কিছুতেই অতি দরিদ্র বলা যায় না। তবে সার্বিকভাবে দরিদ্রতা কমলেও গ্রামাঞ্চলে গরিবের সংখ্যা প্রায় 19.3 শতাংশ। শহরাঞ্চলে আবার সেই সংখ্যাটা 8 শতাংশেরও বেশি।
বলা বাহুল্য, এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জামানায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া হতো। বর্তমান সরকারের সময়ও সেই কাজটা চলছে। সেই সূত্র ধরেই আয় বেড়েছে প্রান্তিক মানুষের। ভারতে গরিবি হ্রাস এবং প্রান্তিক মানুষের অবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে সরকারি প্রকল্পকে দায়ী করা হয়েছে বেশিরভাগ দিক থেকেই।