সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen)। আপাতত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ইডির দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েই তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তবে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাও। এবার তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। তবে যেহেতু তাঁর আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট, তাই কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ইন্দ্রনীলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী সংস্থা
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা মার্স আর্ট নামক একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, যেটি ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরপর গড়ে ওঠে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই কোম্পানির মাধ্যমেই হয়েছে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। সেই সূত্রে এবার ইডির র্যাডারে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। অভিযোগ, প্রচারে ইউনেস্কোর নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রি এবং রিভিউ শো-র নাম করে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন ইন্দ্রনীল।
এদিকে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ ও ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বেশ কয়েকটি জায়গায় চালানো হয় তল্লাশি। এমনকি একাধিকবার তাঁকে ডেকেও পাঠিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। তবে চতুর্থ দিন সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে গিয়ে সেখান থেকেই গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল। আপাতত তাঁকে ১০ দিনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিজের বিধানসভায় সাংসদকে ঢুকতে দিতেন না ইন্দ্রনীল সেন! বিস্ফোরক অভিযোগ রচনার
অন্যদিকে আগাম জামিন চেয়ে ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে মধুছন্দার আবেদন মঞ্জুর করা হয়। তবে ইন্দ্রনীলের আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যদিও তাঁর আইনজীবী সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। তবে যেহেতু এই দুর্নীতির কাণ্ডে মধুছন্দা যুক্ত রয়েছেন, তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। কিন্তু যেহেতু তাঁকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট, তাই এখনই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে কীভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়, থানায় ডেকে পাঠানো হবে নাকি পুলিশ আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।