প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু পড়াশোনা নয়, এর পাশাপাশি জীবন বাঁচানোর পাঠও নিতে হবে পড়ুয়াদের। আর সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও প্রাইভেট স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে CPR প্রশিক্ষণ (CPR Training) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে স্বাস্থ্যদপ্তর (West Bengal Health Department)। অর্থাৎ স্কুলের মধ্যেই এবার পড়ুয়াদের শেখানো হবে কীভাবে কোনো হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জীবনদায়ী কৌশলের (Life Saving Skills) মাধ্যমে বাঁচানোর চেষ্টা করা হবে।
৩২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়াকে CPR প্রশিক্ষণ
ক্রমেই বাড়ছে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। এই অবস্থায় স্কুলে সিপিআর অর্থাৎ কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা নিয়ে অনেকেই মতামত প্রেরণ করেছিলেন। এবার সেই নিয়ে শিক্ষা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, CPR নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কাজ অনেকটা এগিয়েও গিয়েছে। বাংলা মাধ্যমসহ CBSE, ICSE এবং ISC সব মিলিয়ে ৩২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়াকে এই শিক্ষা দেওয়া হবে।
কেন শেখানো হচ্ছে এই পদ্ধতি?
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মূলত কারও হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বুকের মাঝখানে চাপ দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে হয়, সেই বিষয়টি শেখানো হবে। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর সঙ্গে কী করা উচিত, কীভাবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, সেই বিষয়েও শেখানো হবে। আসলে অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের কারণে অনেকের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। তাই শুধু চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেই এই জীবনদায়ী কৌশল প্রশিক্ষণ সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যাতে ডাক্তার আসার আগেই রোগীকে মোক্ষম দাওয়াই দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের খাতা দেখবেন না প্রবীণ শিক্ষকরা? মূল্যায়নে নতুন ভাবনা পর্ষদের
স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু। তিনি জানিয়েছেন, ‘মানুষের জীবন বাঁচাতে এটি অত্যন্ত জরুরি ট্রেনিং। প্রচুর মানুষের প্রাণ বাঁচতে পারে এভাবে। তবে ভুলভাল প্রয়োগে রোগীর জীবনে সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্ত বেশ প্রশংসনীয়।” অন্যদিকে সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল জানিয়েছেন, ‘হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ব্লকের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে CPR কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও ট্রমা, দুর্ঘটনায় জ্ঞান হারালেও এটি কাজে লাগতে পারে।”