অনন্যা সরকার, পশ্চিম মেদিনীপুর: সাফল্য শুধু স্বপ্ন দেখলেই আসে না, এর পিছনে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তার উজ্বল দৃষ্টান্ত হলেন খড়গপুরের পপরাহারা (৬/২) গ্রাম পঞ্চায়েতের বারবানশি গ্রামের সুমন বেরা (Success Story of Suman Bera)। সাধারণ কৃষক পরিবারে অ্যাসবেস্টসের চালের বাড়িতে বেড়ে ওঠা সুমনদের এতদিন সংসার চলতো বাবার এক বিঘা জমি ও বোনের টিউশনির আয়ে। কিন্তু সীমিত সামর্থ্যেও তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেমে থাকেনি।
কোটি টাকার চাকরির অফার পেলেন সুমন
বারবানশি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে চমৎকার রেজাল্ট করার পর তিনি মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। অষ্টম শ্রেণি থেকেই বিভিন্ন স্কলারশিপ তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াকালীন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ে সুমনের। ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইন্টার্নশিপে যোগ দেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে তিন মাসের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা কার্যত তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরিশ্রম করার ক্ষমতার পাশাপাশি, সুমনের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে মাইক্রোসফটের (Microsoft) মালিকানাধীন পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইন (Linkedin) তাঁকে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার প্যাকেজের চাকরির প্রস্তাব দেয়। সুমন জানান, তিনি এমন চাকরির অফার পাবেন, তা কখনও আশাও করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: অভাবকে হারিয়ে জয় কৃষকের ছেলের! মাইক্রোসফটে ১ কোটির চাকরি পেলেন খড়্গপুরের সুমন
সুমনের এই সাফল্য শুধু তাঁর একার নয়, এটি তাঁর পরিবারের দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি। চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত বাবা ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তবু আনন্দে আত্মহারা বাবার আশা এবার সংসারে সুদিন আসবে। মা নির্মলা বেরা প্রায় ২৫ বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের বারণ থাকায় ধান বওয়া বা চাল ভাঙানোর মতো ভারী কৃষিকাজ করতে পারেননি, রান্না ও হালকা গৃহস্থালির কাজই সামলাতেন। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সুমনের সাফল্য আজ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প ও নিরলস পরিশ্রম থাকলে গ্রামের ছোট ঘর থেকেও বিশ্বমানের সুযোগ অর্জন করে নেওয়া সম্ভব।