অনন্যা সরকার, কলকাতা: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহকদের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) ঘোষণা করা এই নতুন দাম সেদিনই রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া, সে দেশের অটো-গ্যাসের দামও প্রতি লিটারে ৮৪.৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৯১.৯৫ টাকা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে দাম বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণ ব্যয় ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১.৭৬ টাকা করা হয়েছে, ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।
তবে সে দেশে সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাওয়া যায় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। অক্টোবরে দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, রাজধানী ঢাকায় সিলিন্ডারের ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর, সাধারণত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা মূল্যের সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: ভারতের এক ধাক্কায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির হল পাকিস্তানের
একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাঁচটি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যত গ্যাসের বিক্রি বন্ধ রেখেছিল এবং সম্ভবত বেশি দামে বা নতুন নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির আশায় তারা বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুদ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ঘাটতির কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল না, কারণ আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন গ্যাস আমদানি করা হয় বাংলাদেশে। ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে উপভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে বিইআরসি-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
আমদানিকারক, ডিলার এবং খুচরো বিক্রেতা – প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিইআরসি বেসরকারি ক্ষেত্রের এলপিজির মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে। তখন থেকেই কমিশন আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা ও সমন্বয় করা শুরু করেছে।