অনন্যা সরকার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া ‘স্মার্ট পিডিএস’ (Smart PDS) ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের গণবণ্টন ব্যবস্থা (Public Distribution System) এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গত আগস্ট মাসে রাজ্যে এই ব্যবস্থাটি চালু হলেও, চলতি মাসের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সার্ভারে বড় রকমের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে হাজার হাজার রেশন দোকানে (Ration Shop) চাল, গম ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রীর
রেশন দোকানে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও ই-পিওএস (e-POS) যন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় কোনো লেনদেনই করা যাচ্ছে না। রেশন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক বা গ্রাহকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি (OTP)-এর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই না করা পর্যন্ত ডিলাররা কোনো পণ্য বিতরণ করতে পারবেন না।
বর্তমানে একটা ডিজিটাল মেমো তৈরি করতেই ১০ – ১৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগছে, অনেক ক্ষেত্রে সার্ভার পুরোপুরি বসে যাচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও, প্রাপ্য না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষরা ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন রেশন ডিলার ও রেশন দোকানের কর্মীদের ওপর, যার ফলে তাঁরা গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দুরন্ত এক্সপ্রেসের বেহাল দশা! এসি দিয়ে পড়ছে জল, ঘুরে বেড়াচ্ছে আরশোলা, ভাইরাল ভিডিও
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু গ্রাহকদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা এই পরিস্থিতির জন্য যেন ডিলারদের দোষারোপ না করেন। ডিলাররা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা ডিডিপিএস (DDPS)-এর অধিকর্তা ও আইটি বিভাগের প্রধান অংশুল গুপ্ত এবং যুগ্ম অধিকর্তা সুময় গোস্বামীর মতো রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও, কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইসি (NIC) এবং আধার কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এই সমস্যাটি নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সরকার এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ও দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছে। তিনি আশা করছেন যে, পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও কিছু ডিলার গ্রাহকদের অসন্তোষ এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেশন দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।