অনন্যা সরকার, কলকাতা: তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ছয় বছর আগে। ২০২০ সালে সারা বিশ্ব যখন কোভিড আতঙ্কে কাঁপছে, সেসময় পশ্চিমবঙ্গের মহিলা কৃষক নারায়ণী মণ্ডল তাঁর বাড়ির সামনে একটি নিউট্রিশনাল গার্ডেন (Nutritional Home Garden) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। আইএমএসই (IMSE) নামক এক সংস্থার অনুপ্রেরণায় শুরু করা এই উদ্যোগটি কেবল তাঁর পরিবারের পুষ্টির চাহিদাই পূরণ করেনি, তার পাশাপাশি গ্রামের অন্যান্য মহিলাদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এই উদ্যোগটি টেকসই কৃষিকাজের সম্ভাবনাকে সকলের সামনে সফলভাবে তুলে ধরেছে।
কীভাবে তৈরি হল পুষ্টি বাগান?
আইএমএসই গ্রামীণ পরিবারগুলোকে এ ধরনের বাগান তৈরিতে সহায়তা করে, যা পুষ্টির মান উন্নত করতে ও পারিবারিক পর্যায়ে টেকসই কৃষিকাজকে উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখে। নারায়ণী তাঁর বাগানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতি মেনে ফসল ফলান। তিনি কোনো ধরনের কৃত্রিম কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। মাটির উর্বরতা বাড়াতে ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) ও গোবর সার ব্যবহার করা হয় এই নিউট্রিশনাল গার্ডেনে। এই জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসল একেবারে খাঁটি ও নিরাপদ।
আরও পড়ুন: রেশনে চাল, গম থাকা সত্ত্বেও ক্রেতারা ফিরছেন খালি হাতে! সমস্যা মিটবে কবে? জানালেন খাদ্যমন্ত্রী
ছোট পরিসরে শুরু হলেও, এই বাগানটি খুব দ্রুত নারায়ণী মণ্ডলের পরিবারের কাছে আশীর্বাদ হয়ে ওঠে এবং এটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবারের জোগান দেয়। তাছাড়া, এর মাধ্যমে পারিবারিক শ্রম, অব্যবহৃত জমি ও অবসর সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। এটি যেমন একদিকে খরচ কমিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে পুষ্টি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করেছে।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, এই পুষ্টি বাগান গড়ে তোলার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সহজ। নারায়ণীর সাফল্য প্রমাণ করছে যে, সামান্য একটু জমি, প্রাকৃতিক সার আর নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমেই যেকোনো পরিবার একটি নিউট্রিশনাল গার্ডেন গড়ে তুলতে পারে। নারায়ণী মণ্ডলের সবুজ-শ্যামল বসতবাড়ি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিবেশীরাও এই কাজে আগ্রহী হয়েছেন। এলাকার আরও কয়েকজন মহিলা নিজেদের উদ্যোগে অর্গানিক নিউট্রিশনাল গার্ডেন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নারায়ণী মণ্ডলের এই গল্প কেবল একজন কৃষকের ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে টেকসই কৃষিকাজ থেকে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পুরো সমাজই উপকৃত হয়।