অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধ করতে মন্দারমণি-তাজপুর (Mandarmani – Tajpur) উপকূলীয় এলাকায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তরফে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অনেকগুলি সিসিটিভি ক্যামেরা (CCTV Camera) বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও জানানো হয়েছে যে, পর্যটকদের ভিড় বাড়লে সমুদ্র সৈকতে ড্রোনও ব্যবহার করা হবে। মন্দারমণি-তাজপুর সমুদ্রসৈকতে স্নান করতে নেমে প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পর্যটকরা। তাই নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্দারমণিতে আরও কড়া জেলা প্রশাসন
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর মন্দারমণিতে সমুদ্রে ডুবে দশজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন দাবি করেছে যে, নিষেধাজ্ঞাগুলি অমান্য করে পর্যটকদের জলে নামার কারণেই এই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। দিঘার মতোই মন্দারমণিতে সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে, আর সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনগুলোতে ভিড়ের পরিমান অনেকটাই বেড়ে যায়। ডিসেম্বর মাসে পর্যটনের ভরা মরশুম শুরু হতে চলেছে। এই সময় প্রচুর পর্যটক ও পিকনিক পার্টিগুলি ভিড় জমাবে তাই আরও প্রাণহানি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দিঘা থেকে থেকে মন্দারমণি পর্যন্ত উপকূল জুড়ে লাইফগার্ড বা স্থানীয় ভাষায় ‘নুলিয়া’দের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি মিলিয়ে মোট ১১০ জন লাইফগার্ড কর্মরত রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ১৪ জন রয়েছেন মন্দারমণিতে। তবে স্থানীয় হোটেল মালিক সমিতির মতে, কর্মী সংখ্যা বাড়ালেও ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই সিসি টিভি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আর সব ক্ষেত্রে বিনামূল্যে মিলবে না অ্যাম্বুলেন্স, দিতে হবে ২৫০০ টাকা
দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিইও প্রতীক অশোক ধুমাল জানিয়েছেন যে, দিঘা ও মন্দারমণিতে পর্যটকদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দা – উভয়েরই বিপদগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) মোহিত মোল্লা জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গাপূজার সময় থেকেই লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যেসমস্ত জায়গাগুলি বিপজ্জনক, সেখানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আরও ক্যামেরা যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, একজন লাইফগার্ড জানিয়েছেন যে কিছু পর্যটক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বেপরোয়া আচরণ করেন, এমনকি বাধা দিলে তারা অনেক সময় দুর্ব্যবহারও করেন। মন্দারমণি দাদনপাত্রবাড় হোটেলিয়ার্স অ্যাসোশিয়েশনের সম্পাদক অশোক খাটুয়া এত বিশাল উপকূলরেখার ওপর নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে যে অসুবিধা রয়েছে, তা স্বীকার করেছেন এবং তারা প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।