প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একের পর এক ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বহু মাস আগে অনেক মহিলা আবেদন করেও এখনও পায়নি টাকা। এদিকে এই পরিস্থিতির মাঝেই ঘটল আরেক ঘটনা। অভিযোগ পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman) মহিলাদের অজান্তেই নাকি এবার তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ব্যাংকের ঋণের টাকা! তুমুল বিক্ষোভ শুরু হল নিমদহে (Nimdaha)।
আবেদন না করেই ঢুকছে ঋণের টাকা!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত নিমদহ অঞ্চলের ছাতনিতে। অভিযোগ সেখানকার বেশীরভাগ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নাকি ঢুকছে ঋণের টাকা। এদিকে তাঁদের দাবি তাঁরা কোনও ঋণের জন্য আবেদন জানাননি ব্যাংকে। আর এখন সেই ঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে মহিলাদের। গতকাল, বৃহস্পতিবার, ছাতনিতে এই ঘটনার প্রতিবাদে নেমেছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। সেখানকার জীবন সাথী মহিলা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখা তাঁরা।
তদন্তের আশ্বাস ব্যাংক ম্যানেজারের
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, “আগে থেকেই ঋণের বোঝা রয়েছে। তার মধ্যেই আবার সম্মতি ছাড়াই নতুন করে অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছে ঋণের টাকা। এখন বাধ্য হয়ে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে ঋণের টাকা ও সুদ। এই সমস্যা কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আতঙ্কিত মহিলাদের একাংশ স্বনির্ভর গোষ্ঠী ছাড়ার আবেদনও করেছেন। জানা গিয়েছে, এদিন নাকি তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু পরে ভয় পেয়ে রীতিমতো ব্যাংক ম্যানেজার নিজেই সোসাইটির অফিসে এসে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শীঘ্রই সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন।
আরও পড়ুন: তিন দিন ধরে নিখোঁজ! রায়গঞ্জে উদ্ধার নাবালিকার দেহ, ‘ধর্ষণ করে খুন’ দাবি পরিবারের
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের অভিযোগ, কীভাবে মহিলাদের সম্মতি ছাড়া তাঁদের নামে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হচ্ছে? কারা এর জন্য দায়ী? নাকি পুরোটাই ব্যাংকের গাফিলতি। যদিও এই নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। তবে ব্যাংক ম্যানেজার এই গোটা বিষয়ে সঠিক তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।