সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় দাঁড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে একাধিকবার ট্রোলের শিকার হয়েছেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri) ওরফে বাগেশ্বর বাবা। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর ব্রিগেডের ময়দানে দাঁড়িয়ে আমিষ খাওয়ার ওপর একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন তিনি, যা নিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয় তাঁকে। তবে সম্প্রতি ভগবান কৃষ্ণের নামে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করায় এবার এই ধর্মগুরুর নামে দায়ের করা হল এফআইআর। আগ্রার একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে বলেই খবর।
বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে দায়ের মামলা
আসলে সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় কারেরা নামক একটি ধর্মীয় সভায় রামকথা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানে তিনি ভগবান রাম এবং ভগবান কৃষ্ণের শারীরিক ভঙ্গি সম্পর্কে তুলনা করেন। বাগেশ্বর বাবার কথায়, “যাঁরা কৃষ্ণকে অনুসরণ করেন, তাঁদের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু কৃষ্ণ খুবই কুটিল। এমনকি দাঁড়ানোর সময়ও তিনি তিন জায়গায় বেঁকে থাকেন। অথচ রাম একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়ান।” এই বিতর্কিত মন্তব্যের জোরেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মানহানির মামলা।
আগ্রার একটি দেওয়ানি আদালতে বৃহস্পতিবার অ্যাডভোকেট অজয় প্রতাপ সিং ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে খবর। আইনজীবীর দাবি, ভগবান কৃষ্ণ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে তাঁর বংশধরদের অনুভূতি এবং সামাজিক মর্যাদায় আঘাত করেছেন বাগেশ্বর। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের মান ক্ষুণ্ন করেছেন তিনি। অভিযোগকারীর যুক্তি, ভগবান কৃষ্ণ দ্বাপর যুগে মানব রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এবং তাঁর বংশধররা এখনও ভারতে বসবাস করছেন।
আরও পড়ুন: অমৃতসরে নিউ জলপাইগুড়িগামী ট্রেনে ভয়ঙ্কর আগুন, ঝলসে গেল ৪টি কামরা
আইনজীবী আরও দাবি করেন, তিনি তাঁর মাতৃপক্ষের দিক থেকে ভগবান কৃষ্ণের বংশধর। শাস্ত্রীর মন্তব্য কৃষ্ণের বংশধরদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, আর তাঁদের সামাজিক সম্মানকে ক্ষুণ্ন করেছে। এদিন দেওয়ানি বিচারক কাঞ্চন কুমারের বেঞ্চে প্রাথমিক শুনানি হয় এই মামলার। তবে আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানের জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে। যদিও ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে কংগ্রেস থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধী দলগুলি সমালোচনা করছে। এমনকি বিজেপি কেন চুপ রয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলছেন তারা।