মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড! ধ্বংসস্তূপে চাপা অনেক, বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

Uttarakhand Cloudburst

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রবল বর্ষণে রণমূর্তি ধারণ করল উত্তরাখণ্ড! জানা গিয়েছে, চামোলি ও রুদ্রপ্রয়াগে ঘটা হঠাৎ হড়পা বানে (Uttarakhand Cloudburst) এই ধ্বংসযজ্ঞ। একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। এমনকি কয়েকটি পরিবার ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আদতে কতটা হল ক্ষয়ক্ষতি? কী পরিস্থিতি এখন ধামির রাজ্যে?

মুখ্যমন্ত্রীর জরুরী নির্দেশ

এক্স হান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি লিখেছেন, রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বসকেদার তেহসিলের বারেঠ দুঙ্গার টোক এলাকা এবং চামোলিতে হড়পা বান ঘটেছে। বহু পরিবার ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েছে। প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। আমি দুর্যোগ দপ্তরের সচিব এবং জেলা পরিষদকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছি।

এদিকে চামোলির জেলাশাসক সন্দীপ তিওয়ারি জানিয়েছেন, দেওয়াল এলাকায় প্রবল বর্ষণের পর হড়পা বানে দু’জন নিখোঁজ হয়েছে এবং বহু পশুপাখি মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে উদ্ধারকার্যে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে দুর্যোগ মোকাবিলা দল ঘঠনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে।

জলস্তর বাড়ছে রুদ্রপ্রয়াগের নদীর

এদিকের রুদ্রপ্রয়াগের পুলিশ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির জেরে অলকানন্দা এবং মন্দাকিনী নদীর জলস্থর বিপদসীমা পেড়িয়ে গিয়েছে। প্রশাসন সতর্কবার্তা জারি করেছে, যাতে সাধারণ মানুষ নদীর ধারে না যায়, এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে নিজেদেরকে সরিয়ে নেয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন উত্তরকাশী, ধরালি, থারালি সহ বেশ কিছু জেলায় হড়পা বান ও আকস্মিক বন্যার কারণে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে গিয়েছে, এমনকি রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ধামি উত্তরকাশী পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের ঘোষণাও করেন।

আরও পড়ুনঃ রবিবার ৭ ঘণ্টা বন্ধ মেট্রোর একাংশের পরিষেবা! ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রী ও পরীক্ষার্থীরা

এদিকে আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবারের জন্য ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করে ফেলেছে। চামোলি, পিথোরাগড়, বাগেশ্বর, চম্পাওয়াতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেখানে অরেঞ্জ অ্যালার্ট এবং উত্তরকাশী, দেরাদুন, তেহরি গড়ওয়াল, রুদ্রপ্রয়াগ, হরিদ্বারে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

Leave a Comment