মহিলাদের জন্য দেশের সবথেকে অসুরক্ষিত শহর কলকাতা, দিল্লি! নিরাপদ মুম্বই, রইল রিপোর্ট

Women Safety Rank

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের শহরগুলিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সমীক্ষার (Women Safety Rank) ফলাফল প্রকাশিত হল। তবে এবার উঠে এসেছে চমক দেওয়া তথ্য। জানা যাচ্ছে, সবথেকে নিরাপদ শহরের তালিকায় শীর্ষে মুম্বাই ও নাগাল্যান্ডের কোহিমা, আর তালিকার একেবারে নীচে ঠাঁই পেয়েছে দিল্লি, কলকাতা, পাটনা এবং জয়পুর।

সমীক্ষার সামগ্রিক চিত্র

উল্লেখ্য, দেশের 31টি শহর মিলিয়ে মোট 1270 জন মহিলার উপর এই সমীক্ষা চালিয়েছে NARI index নামের এক সংস্থা। সেখানে নিরাপত্তায় সর্বভারতীয় গড় স্কোর ধরা হয়েছে মোটামুটি 65 শতাংশ। মূলত শহরগুলিকে “much above”, “above”, “below” ও “much below” সূচকের ভিত্তিতেই ভাগ করা হচ্ছে।

তালিকায় শীর্ষস্থানীয় শহর অর্থাৎ প্রথম সারিতে তকমা পেয়েছে কোহিমা, বিশাখাপত্তমের ভাইজ্যাগ, ভুবনেশ্বর, আইজল, গ্যাংটক, ইটানগর এবং মুম্বাই। তবে একেবারে তলানিতে ঠাঁই পেয়েছে রাঁচি, শ্রীনগর, কলকাতা, দিল্লি, ফরিদাবাদ, পাটনা এবং জয়পুর।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, যেখানে লিঙ্গসমতা, মহিলাবান্ধব পরিকাঠামো এবং সক্রিয় পুলিশি ভূমিকা ও নাগরিকদেড় অংশগ্রহণ বেশি, সেই শহরগুলি এবার নিরাপত্তার দিক থেকে এগিয়ে। অন্যদিকে পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক মানবিকতা বা দুর্বল পরিকাঠামোগত উদাসীনতা যে সমস্ত শহরে রয়েছে, সেগুলি সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে।

সমীক্ষায় 60 শতাংশ মহিলা বলছে যে, তারা শহরে নিরাপদ মনে করে। আবার 40 শতাংশ মানুষ মনে করছে তারা একেবারে নিরাপদ নয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনে নিরাপত্তা 86 শতাংশ হলেও রাতে সেই নিরাপত্তার হার হ্রাস পাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রকে 91 শতাংশ মহিলা নিরাপদ মনে করছে। তবে অর্ধেকেই জানে না যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট নীতি কার্যকর রয়েছে কিনা। শুধুমাত্র 25 শতাংশ মহিলা নিজের কর্তৃপক্ষকে ভরসাযোগ্য মনে করছে।

তাহলে উদ্বেগের কারণ কোথায়?

উল্লেখ্য, 2024 সালের সমীক্ষায় উঠে এসেছিল যে, 7 শতাংশ মহিলা জনসম্মুখে হয়রানির শিকার হচ্ছে। 24 বছরের নীচে বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার 14% পৌঁছচ্ছে। এমনকি সবথেকে বেশি হয়রানি ঘটছে পাড়ার ভেতরে, 38 শতাংশ এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টে, 29 শতাংশ। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হল, প্রতি তিনজন ভুক্তভোগীর মধ্যে মাত্র একজন অভিযোগ জানাচ্ছে। ফলে সরকারি অপরাধের পরিসংখ্যান নারীদের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড! ধ্বংসস্তূপে চাপা অনেক, বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

এদিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রহাতকর জানিয়েছেন, মহিলাদের নিরাপত্তাকে শুধুমাত্র আইনের চোখে দেখা যাবে না। তিনি বলেছেন, যখন মহিলা নিরাপদ বোধ করে না, তখন তাঁরা নিজেরাই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেন। আর একজন নারী যদি নিজেকে সীমাবদ্ধ করে, তাহলে শুধু তাঁর নয়, বরং গোটা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা।

Leave a Comment