প্রীতি পোদ্দার, আসানসোল: বেতন না পাওয়ায় এবার নির্মল সাথী কর্মীদের বিক্ষোভ দেখা গেল আসানসোল (Asansol) পৌর কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে। অভিযোগ, গত চার মাস ধরে নির্মল সাথীর আওতাধীন মহিলারা কোনো বেতন পাননি। একাধিকবার এই নিয়ে ঊর্ধ্ব কর্তাদের জানানো হলেও কোনো রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর তাই এবার নিজেদের হকের দাবিতে এবং বেতন সঠিক সময় দেওয়ার জন্য গতকাল পৌর কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে শুরু হয় কর্মী বিক্ষোভ। জানা গিয়েছে ১০৬ টি ওয়ার্ডের ২৭২ জন নির্মল সাথীর মহিলারা এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন।
ঘটনাটি কী?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, বেতন পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট দাবি তুলেছিল যে, “ নিয়ম অনুযায়ী আমরা প্রতি মাসে কাজ করবো এবং প্রতি মাসে বেতন নেবো। এছাড়াও আমাদেরকে মাসে ২৬ দিন ডিউটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিলে। কিন্তু তা দেওয়া হচ্ছে না। তার বদলে ২২ দিনের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে।” তারা এদিন দাবি জানিয়েছেন যে, বেতনের এই সমস্যা নিয়ে মেয়র আমাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি গোটা বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তারপরেও কিছুই হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সকলেই। এদিকে, এদিন আসানসোল পুরনিগমে ছিল পুর কাউন্সিলারদের বোর্ড বৈঠক। সেই বৈঠক শেষ হয়ে গেলেও বিক্ষোভকারীদের জন্য কাউন্সিলাররা পুর ভবনে আটকে পড়েন।
আসানসোলে বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে তোলপাড় সদর দপ্তর
বিক্ষোভ মিছিল বন্ধের অনুরোধ করে বেশ কয়েকজন মেয়র পারিষদ, বোরো চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররা, কিন্তু তাঁদের বক্তব্য শুনতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। এদিকে পুরনিগমের গেট আটকে দেওয়ায় সাধারণ মানুষেরাও পুর ভবনে ঢুকতে পারছিলেন না। নিরাপত্তা রক্ষীরাও বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে গেট খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে বাধা পান তাঁরা। পুর ভবন চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দুপুরের দিকে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ পুরনিগমে আসে। এবং বিক্ষোভ মিছিল শান্ত রাখা হয়। দুপুর তিনটে নাগাদ বিক্ষোভ উঠে যায়।
আরও পড়ুন: ‘আমি লোভটাকে জয় করতে পেরেছি বলেই….’ বড় বয়ান CU-র উপাচার্য শান্তা দত্তর
প্রসঙ্গত, আসানসোল পৌর কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে এরূপ বিক্ষোভের ফলে মেয়র বিধান উপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের বেতন সরকারি টাকা। কোনও কারণে টাকা নাও আসতে পারে। যতক্ষণ না টাকা আসে, ততক্ষণ তাদের টাকা দেওয়া যাবে না। আমি যতদূর জানি দুমাসের বেতনের টাকা এসেছে। তাদেরকে তা দেওয়া হবে। কিন্তু এইভাবে গেট আটকে বিক্ষোভ দেখানো একদমই ঠিক হয়নি। অন্যদিকে গোটা ঘটনায় বিরোধী দলের মদত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।