প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পর এবার সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) আক্রান্ত হতে হল রাজ্য পুলিশকে। আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল আইনি রক্ষকদের নিরাপত্তা। জানা গিয়েছে, জমি বিবাদ নিয়ে অশান্তির জেরে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতেই আক্রান্ত হতে হয়েছে পুলিশকে। ঘটনায় ১ অফিসার সহ ৩জন পুলিশ কর্মী আক্রান্ত হন। পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায় জুড়ে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালির বয়ারমারি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মুসা মোল্লাকে ন্যাজাট থানার পুলিশের তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ সেই নোটিস দিনের পর দিন অগ্রাহ্য করছিলেন মুসা। তাই সেই কারণেই গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সন্দেশখালিতে মুসাকে ধরতে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপদ। স্থানীয়রা পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালায়। এমনকি পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুনঃ IPL খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজুর, KKR-কে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ BCCI-র
আটক করা হয়েছে ৯ জনকে
সন্দেশখালিতে পুলিশের উপর হামলা ঘটনার পরে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সেখানে ৯ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করে ন্যাজাট থানার পুলিশ। এই ঘটনায় কারা জড়িত তা জানতে ইতিমধ্যেই বয়ারমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। অভিযোগ মুসাকে পালাতেও সাহায্য করে স্থানীয় কয়েকজন। এদিকে এই হামলার ঘটনায় ১ অফিসার-সহ তিন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তড়িঘড়ি আক্রান্ত অফিসার ও পুলিশকর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জুড়বে বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটি, কামারপুকুরে ট্রেন চলবে কবে? আপডেট দিল রেল
প্রসঙ্গত, গত বছর জানুয়ারি মাসে শাসকদলের দাপুটে নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে আক্রান্ত হতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। পুলিশ সুপারকে জানানোর পরেও কী ভাবে আধিকারিকদের উপর হামলা হল সেই নিয়ে এখনও বিতর্কের শেষ নেই। আর সেই তর্কবিতর্কের সমাধান হওয়ার আগেই ফের চলতি মাসে রাজ্য পুলিশকে আক্রান্ত হতে হল সন্দেশখালির স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে। এখন দেখার পালা এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা।