‘I-PAC কাণ্ডে ইচ্ছে করে হাইকোর্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল তৃণমূল!’ ভাইরাল Whatsapp চ্যাট

ED Raid I-PAC Office

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতার আইপ্যাকের অফিসে ইডির অভিযান (ED Raid I-PAC Office) চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফাইল হাতে বেরোনো নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। গতকাল সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল যে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষকে শুনানি স্থগিত করেই এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। তবে কি পরিকল্পনা করেই এদিন হাইকোর্টে এরকম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল? ভাইরাল তৃণমূলের চ্যাট।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করছেন যে, আদালত কক্ষে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা পরিকল্পিত ভাবেই শাসক দল সৃষ্টি করেছে। বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি X-এ তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট দিয়েছেন, যা এই অভিযোগের আগুনে আরও ঘি ঢালছে। যদিও চ্যাটের সত্যতা যাচাই করা হয়নি ইন্ডিয়া হুডের তরফ থেকে। শুভেন্দু দাবি করছেন, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাছাড়া এই ধরনের বিশৃঙ্খলা স্বাভাবিকভাবে ঘটানো।

আরও পড়ুন: আমেরিকার জন্য বিপদে আমরা, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ভারতের সমর্থন চাইল ডেনমার্ক

অন্যদিকে তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের আহ্বায়ক অমিত দাস বলেছেন যে, ২০১৯ সাল থেকেই দলীয় স্তরের তথ্য শেয়ার করা হয় এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। এটা কোনও নতুন ঘটনা নয়। বিজেপি এবং সিপিএম আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে হাতিয়ার করে শাসক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

কী হয়েছিল আদালতে?

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, গত বৃহস্পতিবার সকালে ইডির অভিযান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর মমতাকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। এরপর তিনি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিসে যান। সেখানে তল্লাশির সময় তাঁর উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। আর এই ঘটনাকে তদন্তের বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: দেউলিয়া হওয়ার পথে ইরান? ভারতের ১০০ টাকা সে দেশে কত জানলে ভিমড়ি খাবেন

তবে শুক্রবার মামলার শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। এমনকি আদালত কক্ষে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে বসেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড় ও হইচইয়ের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমনকি বিচারপতি শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্দেশ না মানার অভিযোগ ওঠে। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে এজলাস ত্যাগ করেন। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Comment