ট্রাম্পের ট্যারিফকে কাজে লাগিয়ে এবার বড় ডিল লুফে নিল ভারত! ক্ষতির বদলে এবার কামাবে মোটা মুনাফা! যা গত ১৮ বছরে সম্ভব হয়নি, এবার সেটাই করে দেখাল ভারত! এবার এক মোক্ষম চালে কাবু করা হবে পাঁচ দেশকে, ঠিক যেন এক ঢিলে পাঁচ পাখি! আর এই ঢিল হল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিল। যার নাম “মাদার অফ অল ডিলস” (Mother Of All Deals)।
আর অন্যদিকে পাঁচটি পাখি হল – আমেরিকা, চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্ক।
এই ডিলের পর চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন খোদ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প! হয়তো ভাবছেন – কেন যে ভারতের ওপর ট্যারিফ চাপালাম? মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্বীকার করেছেন – এই ডিলের ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে ভারতই।
কিন্তু, কী এই “মাদার অফ ডিলস”, যা নিয়ে বর্তমানে সরগরম বিশ্ব রাজনীতি? কেন এই ডিলের জন্য ঘুম ছুটেছে আমেরিকা, বাংলাদেশ সহ চিনেরও? এই ডিলের ফলে ঠিক কী কী লাভ হবে ভারতের? আর এই চুক্তি করে কীভাবে পাঁচটি দেশকে প্যাঁচে ফেলল ভারত?
আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো সমস্ত তথ্য, সমস্ত সত্য যা জানলে চমকে যাবেন আপনিও!
কি এই মাদার অফ অল ডিলস? | What Is Mother Of All Deals?
দিনটা ২৬শে জানুয়ারি। একদিকে সারা দেশ জুড়ে যখন পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস, ঠিক তখনই অন্যদিকে এক বিশেষ বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই বৈঠক ছিল ইউরোপীয় কমিশনের প্রসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান অ্যান্টোনিও কোস্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। আর তার পরের দিন অর্থাৎ ২৭শে জানুয়ারি, ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা করে বহু প্রতীক্ষিত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অর্থাৎ Free Trade Agreement।
যে চুক্তির জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করে আসছিল ভারত। আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৭ সালে কংগ্রেস আমলে ভারতের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিশেষ আলোচনা শুরু হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও EU-এর মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়ানো। ইংরেজিতে এর নাম ছিল ব্রড বেসড ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট। কিন্তু, আলোচনা হলেও তা কখনোই বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর দেশে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ফের শুরু হয় আলোচনা। ২০২১ সালে করোনার পর পর এই বাণিজ্য আলোচনা গতি পায়, যদিও তখন বাস্তবায়ন হয়নি। তবে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প একদিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক চাপায় ৫০%, আর অন্যদিকে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক চাপায় ২০%, আবার স্টিল-অ্যালুমিনিয়ামে ওপর আলাদা করে ২৫%। যারপর দু’পক্ষ বুঝে যায় — আমেরিকার উপর ভরসা রাখা বিপজ্জনক। আর তাই এই বাণিজ্য চুক্তি তড়িঘড়ি সম্পন্ন করে ফেলে দুই পক্ষ।
এবার বুঝতে হবে কী এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অর্থাৎ Free Trade Agreement?
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি – এটি এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে – এবার ভারতের ৯৯ শতাংশই পণ্য কোনও শুল্ক বা ট্যারিফ ছাড়াই পৌঁছে যাবে ইউরোপের ২৭টি দেশে। ইউরোপের মার্কেট চলে আসবে ভারতের হাতে। অন্যদিকে, ইউরোপের অন্তত ৯৬ শতাংশ পণ্যের শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হবে ভারতের তরফে।
হঠাৎ কেন এই একটি চুক্তিকে বলা হচ্ছে মাদার অফ অল ডিলস?
এই ডিল হওয়ার আগে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য হয়েছে ১১.৮ লক্ষ কোটি টাকার। এখানে আরও চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, এর মধ্যে ভারত থেকে রফতানি হয়েছে প্রায় ৬.৪৪ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য, আর ভারতে আমদানি করা হয়েছে ৫.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু, এই চুক্তির পর এবার ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে যাবে ১৭ -২১ লক্ষ কোটি টাকায়।
এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে – ভারতের বস্ত্র, ফার্মাসিউটিক্যালস, রত্ন ও গয়না এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য বিভাগগুলি উপকৃত হবে এবং ভারতীয়দের জন্য কর্মসংস্থান বাড়বে। দাম কমবে একগুচ্ছ জিনিসের। যেমন
১। মেশিনারি জিনিসপত্র, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ৪৪ শতাংশ।
২। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ২২ শতাংশ।
৩। ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ১১ শতাংশ।
৪। ওয়াইন, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ২০-৩০ শতাংশ।
৫। স্পিরিট, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ৪০ শতাংশ।
৬। বিয়ার, ট্যারিফ কমানো হয়েছে ২০-৩০ শতাংশ।
৭। অলিভ অয়েল, মার্জারিন, উদ্ভিজ্জ তেল, বিনা শুল্ক।
৮। গাড়ি, বিমান এবং মহাকাশ পণ্য, ধীরে ধীরে ট্যারিফ কমবে ১০ শতাংশে।
৯। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশের কিছু নির্বাচিত *CBU গাড়ি, যে গুলির দাম ১৬.৩ লক্ষ টাকার বেশি হবে, সেগুলির আমদানি শুল্ক ৭০-১১০% থেকে ৪০%-এ নেমে আসতে পারে।
১০। প্রিমিয়াম এবং বিলাসবহুল বিভিন্ন ব্র্যান্ড, যেমন – মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, অডি, পোর্শে, ভলভো, ভক্সওয়াগেন গাড়িগুলির ওপর বড়সড় স্বস্তি পাওয়া গেল।
১১। ইভি গাড়িগুলিতে কমপক্ষে ৫ বছরের জন্য শুল্ক কর্তনের আওতা থেকে বাদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে, ভারতের অটোমোবাইল শিল্পকে বাঁচাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২৫ লক্ষ টাকার কমের গাড়ি ইউরোপ থেকে আমদানি করা যাবে না। সেই সব গাড়ি তৈরি তৈরি করতে হবে ভারতের মাটিতেই। বার্ষিক গাড়ি কেনা যাবে মাত্র ২৫০,০০০।
১২। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জামের ৯০% পণ্য শুল্কমুক্ত হবে। সস্তা হবে রোগ নির্ণয়কারী এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম।
১৩। ভারতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক এবং সামুদ্রিক কোম্পানিগুলি সহজে প্রবেশ করতে পারবে।
১৪। ব্যাংকিং এবং শিপিং পরিষেবাগুলি আরও সস্তা এবং সহজলভ্য হবে।
এবার বুঝতে হবে এই ডিল ঐতিহাসিক কেন?
প্রথমত, EU অনুমান করছে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে।
দ্বিতীয়ত, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারত-ইইউ বাণিজ্য দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, আগামী দুই বছরে ভারতকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো প্রদান করবে EU ।
চতুর্থৎ, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে ভারতকে সাহায্য করবে।
পঞ্চমত, সারা বিশ্বের মোট জিডিপি-র এক চতুর্থাংশ পরিমাণ কভার হল কেবল এই একটি চুক্তির মাধ্যমে।
আর এই সমস্ত কারণের জন্যই এই ডিলকে বলা হচ্ছে সমস্ত চুক্তির জননী।
তবে এই ডিল যে কেবলমাত্র ঐতিহাসিক তা কিন্তু নয়, এই ডিলের পেছনে রয়েছে ভারতের বিশাল কূটনৈতিক প্ল্যান, যার মাধ্যমে বাজিমাত করা যাবে পাঁচ-পাঁচটি দেশকে। কিন্তু কীভাবে? এবার সেটাই তুলে ধরবো আপনাদের কাছে।
১। ধাক্কা খাবে চিন!
চিনের সস্তা পণ্য, আর সাপ্লাই চেন বর্তমানে সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। কিন্তু ভারত আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই ডিল সেই সস্তা পণ্যের বাজার আর চেন ভাঙতে না পারলেও, কিছুটা হলেও দুর্বল করবে।
ভারত এখন চিন থেকে বিপুল পরিমাণে মেশিনারি, ইলেকট্রনিক্স পার্টস, কেমিক্যাল, সোলার প্যানেল আমদানি করে। কিন্তু, মাদার অফ অল ডিলসের ফলে ভারত এবার চিনের ওপর নিজেদের নির্ভরতা কমাবে। শুধু তাই নয়, এই ডিলের ফলে ইউরোপীয় বাজারে কমবে ভারতীয় পণ্যের দাম। যার ফলে কিছুটা হলেও ইউরোপের বাজারে চিনের বিকল্প হয়ে উঠবে ভারত।
আবার “মাদার অফ অল ডিলস” বাস্তবায়িত হলে, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিনের সাপ্লাই চেন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ ইউরোপীয় কোম্পানি যদি চিনের বদলে ভারতে কারখানা বা অ্যাসেম্বলি ইউনিট বসায়, তাহলে চিন থেকে ওই পার্টসের অর্ডার কমতে পারে। আবার সোলার, ব্যাটারি ও গ্রিন টেক–এ ইউরোপ–ভারত যৌথ বিনিয়োগ করলে চিনের আধিপত্য আংশিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
২। মার খাবে বাংলাদেশের শিল্প!
আশা করা হচ্ছে এই চুক্তির ফলে ভারতের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস রফতানিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে EU-তে ভারতের টেক্সটাইল রফতানির পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু FTA কার্যকর হলে এটি দ্রুত ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। এই বৃদ্ধির ফলে শ্রম-নির্ভর এই খাতে ৬-৭ মিলিয়ন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
আর বাংলাদেশের টেক্সটাল শিল্প এমনিতেই গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি, ডলার সংকট, অর্ডার কমে যাওয়ার মতো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন তো ছিলই, এবার এই ডিলের ফলে আরও কমে যাবে তাদের টেক্সটাইল শিল্প।
৩। ক্ষতি হবে পাকিস্তানেরও!
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আগে থেকেই পাকিস্তানের বাণিজ্যচুক্তি রয়েছে। যার ফলে ৮০ শতাংশ পাক পণ্য বিনা শুল্কে ইউরোপে যায়। বিপরীতে, ভারতের পণ্যে এখনও গড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক লাগে।
তবু ইউরোপে ভারতের বার্ষিক বস্ত্র রফতানি ৫৬০ কোটি ডলার, আর পাকিস্তানের ৬২০ কোটি ডলার—ফারাক খুবই কম। প্রস্তাবিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে শুল্ক উঠে গেলে ভারতীয় বস্ত্র আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে ইউরোপের বাজারে তাদের অগ্রাধিকার হারাবে, রফতানিতে বড় ধাক্কা লাগবে। আর এই আশঙ্কা করছে খোদ পাকিস্তানই!
৪। তুরস্কও ফাঁদে পড়বে!
সালটা ১৯৯৬। একটি চুক্তি হয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আর তুরস্কের মধ্যে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, শিল্পজাত পণ্যে দুপক্ষ থেকেই সমস্ত ট্যারিফ সরানো হবে। আরও ভালোভাবে বললে বলা যায়, তুরস্ক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য না হলেও, EU-এর উৎপাদন আর লিজিস্টিক চেনের মধ্যে গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাই তুরস্ক ভেবেছিল হয়তো এবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পণ্যের সাথে তুরক্সের পণ্য বিনা শুল্কে ভারতে পাঠানো যাবে। কিন্তু আপনাদের জানিয়ে দিই, ভারতের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে – এই ডিলে তুরস্কের কোনও পণ্য ভারত কিনবে না।
৫। আমেরিকার ক্ষতি!
ট্যারিফ চাপিয়ে ভারতকে নিজের ইচ্ছায় নাচাতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু এবার সেটাই বুমেরাং হয়ে গেল আমেরিকার জন্য!
কারণ রিপোর্ট বলছে, একদিকে ট্রাম্পের ট্যারিফ গেমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
আর অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বর্তমানে ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করে ভারত, যা এই বাণিজ্য চুক্তির পর বেড়ে যেতে পারে ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে। যা মিটিয়ে দেবে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি।
অর্থাৎ, ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে এবার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করতে পারবে ভারত। আর এই চুক্তির পর ভারতের আর কোনও সীমাবদ্ধতা থাকল না। ভারত ইতিমধ্যেই আমেরিকার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমেরিকার কৃষকরাই।
আপনাদের জানিয়ে দিই, ভারত আর আমেরিকার ট্রেড চুক্তি না হওয়ার অন্যতম মূল কারণই হল – মার্কিন কৃষিপণ্য, ডেয়ারি এবং জেনেটিকালি মডিফায়েড শস্য। কারণ, আমেরিকার শত চেষ্টার পরেও এই সমস্ত পণ্যকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ ভারতে এই সমস্ত পণ্য আসলে মার খাবে ভারতের কৃষকরাই।
কিন্তু, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি পণ্যের ওপর কোনও ধরনের শুল্ক হঠানো হচ্ছে না। অর্থাৎ, একদিকে সাপও মরলো আবার লাঠিও ভাঙল না, অর্থাৎ একদিকে মার্কিন বাজারের বিকল্প বাজারও পেয়ে গেল, আবার ভারতের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা হয়ে গেল।
শুধু তাই নয় মুখ থুবড়ে পড়বে ডলার!
বিভিন্ন দেশ বর্তমানে ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। যদি এই অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত ডলারের পরিবর্তে ইউরো-রুপি ব্যবহার করে বাণিজ্য করতে চায়, তাহলে অনেকটাই কমবে ডলারের চাহিদা। উদাহরণ দিয়ে বললে, আগে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হলে সেখানে ডলারের চাহিদা তুঙ্গে থাকতো। কিন্তু এখন ডিলের পর যদি ইউরো-রুপি ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ বাণিজ্যের ৪০ বিলিয়ন ইউরোতে আর ২০ বিলিয়ন রুপিতে হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রেও ৬০ বিলিয়ন ডলারের চাহিদা উধাও হয়ে যাবে।
পাশাপাশি, EU ইউরোর ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে—জ্বালানি ও কাঁচামাল কেনাবেচায় ইউরোতে চুক্তি উৎসাহিত করছে, নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম শক্তিশালী করছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণ ও বিনিয়োগে ইউরোর ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
আপনার কি মনে হয় কতটা লাভবান হবে ভারতীয়রা? মোদীর এই মাস্টারস্ট্রোককে আপনি ১০-এ কত দেবেন? সত্যিই কি এই এক ডিল দিয়ে পাঁচ পাখি মারা সম্ভব হবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।