India Hood Decode: ভোটের আগেই বাজিমাত শাহের, নিলেন এমন সিদ্ধান্ত যে ঘাম ছুটছে তৃণমূলের!

কখনও শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে জারি হবে রাষ্ট্রপতি শাসন,

আবার কখনও শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভোট গণনা হবে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে!

কিন্তু, এগুলো সত্যি হোক বা না হোক, তবে এবার সত্যি হয়ে গেল এমন কিছু ঘটনা, যা বহুদিন ধরেই চেয়ে আসছিল বাংলার মানুষ! যা বদলে দিতে চলেছে বাংলার ভবিষ্যৎকেই।

কারণ ইতিমধ্যেই অমিত শাহের (Amit Shah) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিয়ে নিয়েছে এমন দুটি সিদ্ধান্ত, যার ফলে চাপে পড়তে চলেছেন খোদ মমতা ব্যাণার্জি থেকে শুরু করে অভিষেক ব্যাণার্জি। ভেস্তে যাবে ভোটের সময় দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি! এক ধাক্কায় হারিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েক লক্ষ ভোট, বদলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সমীকরণটাই!

তবে, শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নয়, রাজ্যের শাসক দলের জন্য দিনের পর দিন একদিকে যেমন মাথাব্যাথা হয়ে উঠছে দেশের নির্বাচন কমিশন, তেমনই অন্যদিকে চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ হাইকোর্টের একের পর এক সিদ্ধান্ত।

কিন্তু, হঠাৎ ঠিক কী এমন সিদ্ধান্ত নিল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক – যার জন্য ল্যাজেগোবরে হবে তৃনমূল? কেনই বা ভেস্তে যাবে দুষ্কৃতীদের প্ল্যান? কীভাবেই বা কয়েক লক্ষ ভোট চলে যাবে বিজেপির হাতে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাথে কী এমন পদক্ষেপই বা নিয়ে নিল সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট?

আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা বদলে দিতে পারে বাংলার ভবিষ্যৎকেই। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

শুরুর আগে জেনে নেবো কিছু তথ্য

আপনারা সকলেই জানেন, ২০২৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছিল SIR। উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা ঝাড়াই-বাছাই করা। আরও ভালো করে বললে – বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ থেকে তাড়াতে, মৃত, স্থানান্তরিত, নকল ভোটারদের সরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু, দেখা যাচ্ছে – দেশের প্রায় ৭টি রাজ্য এবং ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR সম্পন্ন হলেও, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না এই প্রক্রিয়া। কারণ SIR-কে কেন্দ্র করে বাংলায় হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু বড় ঝামেলা, সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হয়ে গিয়েছে একাধিক মামলা। কোথাও দেখা যাচ্ছে – BLO-কে দেওয়া হচ্ছে হুমকি, তো কোথাও করা হচ্ছে মারধর, আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে গোটা BDO অফিসে আগুন ধরানোর ঘটনা।

এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর ফলে ইতিমধ্যেই বাদ গিয়েছে প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম। আর পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ। অর্থাৎ প্রায় ৯ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

এবার যদি আপনি ভেবে থাকেন এত পরিমাণ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার কারণে এত সমস্যা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, তাহলে আপনি কিন্তু ভুল!

কারণ জানলে অবাক হবেন, মোদীর রাজ্য গুজরাতের SIR-এর পরিসংখ্যান। সেখানে SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি সাড়ে ৮ লক্ষ। সংশোধন-পর্ব শেষ হওয়ার পরে কমেছে প্রায় ৭০ লক্ষ নাম। অর্থাৎ বাদ গিয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশেরও বেশি নাম।

শুধু তাই নয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরালা – যেখানে বিজেপির সরকার নেই সেখানেও কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো এত হাঙ্গামা হচ্ছে না।

তবে, এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিয়ে ফেলল দুই বড় সিদ্ধান্ত, যা খতম করে দিল শাসক দলের সমস্ত জারিজুরি।

প্রথম সিদ্ধান্ত – CAA-র জন্য বিশেষ কমিটি

কথায় বলে, একে রাম রক্ষে নেই, তার ওপর সুগ্রীব দোসর! আর সেই একই কথা দেখা যাচ্ছে বাংলাতেও। একে SIR রামে রক্ষে নেই, তার ওপর CAA নামক সুগ্রীব দোসর। হ্যাঁ, কারণ এবার CAA চালু করার জন্য এম্পাওয়ার্ড কমিটি গঠন করে ফেলল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাও আবার সেই বাংলায়, যেখানে পড়শি রাজ্য অসমে CAA লাগু করার জন্য জ্বলেছিল আগুন।

দিনটা ২০২৬-এর ২০শে ফেব্রুয়ারি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য জারি করা হয় সিটিজেনশিপ অ্যামেণ্ডমেন্ট অ্যাক্ট অর্থাৎ CAA-র একটি অর্ডার। আর গঠন করা হয় একটি কমিটি, যারা খতিয়ে দেখবে এই রাজ্যের CAA সংক্রান্ত সমস্ত কিছু বিষয়, এবং কার্যকর করবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম। ফলে রাজ্যে CAA লাগু করা হয়ে যাবে আরও সহজ, এবং খুব কম সময়ে ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন পশ্চিমবঙ্গে থাকা বাংলাদেশী হিন্দুরা।

এই এম্পাওয়ার্ড কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের জনগণনা বাস্তবায়নের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল।

সদস্য হিসেবে থাকবেন
আইবি-র ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসার,
FRRO-র মনোনীত আধিকারিক,
ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের আধিকারিক,
পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসার।

বৈঠকে থাকবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বা অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি।

কিন্তু, এই কমিটির ফলে লাভটা কী হবে?

এরা জমা পড়া প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখবেন এক এক করে।

জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, করবেন পরিচয় যাচাই।

তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন – যে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, নাকি আবেদন খারিজ করা হবে।

শুধু তাই নয় , দীর্ঘদিন ধরে CAA-তে নাগরিকত্ব না পাওয়ার অভিযোগ উঠছিল,  বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম তালিকায় না ওঠা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ। কিন্তু সেই সমস্যা এবার মিটবে

যদি সবকিছু ঠিকঠাক করে কাজ হয়ে যায় এবং নাগরিকত্ব পেয়ে যায় বাংলাদেশের হিন্দু এবং মতুয়ারা – তাহলে এক ধাক্কায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ ভোট চলে যাবে বিজেপি-র পকেটে! কারণ ভারতের নাগরিকত্বের জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছিল এই হিন্দুরা। তাই নাগরিকত্ব পেলে যে এই সংখ্যক ভোট বিজেপিতে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত – ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী

SIR চলাকালীন বাংলায় যে পরিমাণ হাঙ্গামা হয়েছে তা দেখে ফেলেছে বাংলার মানুষ। আর এবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হবে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা। যারপর বাংলায় হতে পারে বড় রকম ঝামেলা কিংবা হাঙ্গামা। আর তা আটকাতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

ভোটের দিন এখনও ঘোষণাই হয়নি, আর তার আগেই ১লা মার্চ রাজ্যে পা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাও আবার ৫০, ১০০ নয় একেবারে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। আর রিপোর্ট বলছে এক-একটি বাহিনীতে থাকেন প্রায় ৭০ থেকে ১০০ জন করে সেনা। অর্থাৎ, ২৪০০০ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে রাজ্যে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২৭ কোম্পানি আইটিবিপি, ২৭ কোম্পানি এসএসবি, এবং ২১ কোম্পানি সিআইএসএফ।

তবে, এখানেই শেষ নয়। এরপর আবার ১০ই মার্চ রাজ্যে আসবে আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। অর্থাৎ আরও ২৪০০০ সেনা।

তবে, শুধু যে SIR তালিকা প্রকাশের পর হিংসা কমাতে, তা কিন্তু নয়। বরং ভোটের আগে এবং ভোট চলাকালীন – দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব কমাতেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর সেই উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা বাহিনী ভোটের আগে নাকি বিভিন্ন এলাকা খতিয়ে দেখবেন, বিভিন্ন এলাকায় মার্চ করবেন, কোনও রকম আইনবিরুদ্ধ কাজ হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন, ফলে সাহস পাবেন ভোটাররাও।

যারা জানেন নাম তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দিই, ২০২১ সালে শেষ  ভোট হয়েছিল ৮ দফায় আর সেবার মোতায়েন করা হয়েছিল ১১০০ কোম্পানি। আর এবার ভোট কিন্তু হতে পারে ওই ২-৩ দফায়, আর এবার ভোট ঘোষণার আগেই চলে এল প্রায় আগের বারের ৪৩ শতাংশ বাহিনী।

অর্থাৎ, ইঙ্গিত স্পষ্ট, কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়। আর সেটা হল – এই যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবেন এদেরকে এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর দায়িত্ব হোক, কিংবা তাদেরকে কোনও কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ হোক, তা করবেন রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা। এখন যদি ২০ মিনিটের রাস্তা ৪০ মিনিট ধরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কতটা স্বচ্ছ থাকবে এই উদ্দেশ্য? ভিডিওটি পজ করুন, আর উত্তর দিন কমেন্ট করে।

এবার জানাবো – সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের মাস্টারস্ট্রোক সম্পর্কে!

দিনটা ২০শে ফেব্রুয়ারি। SIR মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করে – রাজ্য এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে! এই বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত, এবং এক ঐতিহাসিক এবং বেনজির নির্দেশ দেয়। সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় – SIR-এর কাজে তথ্যগত অসঙ্গতির যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করবেন এবার কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত আধিকারিকেরা। কমিশন এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকেরা কেবল বিচারবিভাগীয় ওই আধিকারিকদের সহায়তা করবেন।

অর্থাৎ, ভাবুন এবার রাজ্য আধিকারিকদের কাজের দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে দিয়ে দেওয়া হল বিচারকদের হাতে। এবার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি অর্থাৎ তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে কিনা তা খুজবেন বিচারকরা!

এটা রাজ্যের লজ্জা নাকি গর্ব? সেই নিয়েও চলছে জোর হইচই।

কিন্তু সময়ে ভোট কী আদৌ হবে? রয়েছে বিশাল বড় আশঙ্কা

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, SIR-এর যে তালিকা প্রকাশিত হবে, সেই নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে। প্রশ্ন তুলবে রাজ্য সরকার। সেই মামলা আবার আদালতে যাবে। অর্থাৎ পুরো বিষয়টা সময় নিয়ে নেবে। আর যখন এই বিষয়টা সময় মতো শেষ না হবে, ততক্ষণে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা বেরোবে না। আর সেটা না হলে, ভোটই হবে না।

মাথায় রাখতে হবে, ৬ই মে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ শেষ। তারপর কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের আগে বসে যাবে প্রাক্তন শব্দটা। অর্থাৎ পাল্টে যেতে পারে গোটা খেলাটাই।

তবে, অনেকে বলছে, সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা না বেরোলে, রাজ্য সরকার উল্টে এমন দাবি তুলতে পারে যে পুরানো ভোটার তালিকাতেই ভোট হোক। ভোটের পর আবার SIR করা হবে।

অর্থাৎ, আপনার কী ভাবছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই দুই সিদ্ধান্ত নিয়ে? কী মনে হয় সত্যিই কি এই সিদ্ধান্তগুলি প্রভাব ফেলবে বাংলার ভোটে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

Leave a Comment