বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নতুন আর্থিক বছর 2026-27 পড়তে না পড়তেই পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (Public Provident Fund) নিয়ে এল বড় খবর। এই দীর্ঘমেয়াদী ছোট সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা রেখে মোটা রিটার্ন পেয়ে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। 2026 এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পে সুদের হার 7.1 শতাংশ। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যদি কেউ নতুন PPF অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তবে তাকে সেই কাজটি আগামী 5 এপ্রিলের আগে করে ফেলতে হবে।
5 এপ্রিলের আগে জমা করতে হবে টাকা
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলে পুরো বছরের সুদ পেতে হলে নতুন বিনিয়োগকারীকে 5 এপ্রিলের মধ্যেই দেড় লাখ টাকা জমা করে দিতে হবে। আসলে আর্থিক বছরের শুরুতে এই ছোট্ট বিনিয়োগ ভবিষ্যতে মোটা টাকায় পরিণত হবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকতে পারে, 5 তারিখের মধ্যেই কেন জমা করতে হবে টাকা? সে প্রসঙ্গে বলি, PPF এ সুদের হিসেব হয়ে থাকে প্রত্যেক মাসের 5 তারিখ। এছাড়া সুদের হিসাব হয় মাস শেষের মধ্যে ন্যূনতম ব্যালেন্সের উপর ভিত্তি করে।
যদি কেউ 1 এপ্রিল থেকে 5 এপ্রিলের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে দেন তাহলে তিনি পুরো মাসের সুদ পাবেন। তবে কেউ যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা না করেন এবং পরবর্তীতে 10 এপ্রিল কিংবা অন্য সময় পুরো টাকা জমা করেন তবুও তিনি পুরো মাসের সুদ পাবেন না। অর্থাৎ কয়েকটা দিনের জন্য গোটা মাসের লস গুনতে হবে আপনাকে।
হিসেব বলছে, কেউ যদি প্রতিবছর PPF অ্যাকাউন্টে দেড় লাখ টাকা রাখেন তবে তিনি 1 থেকে 5 এপ্রিলের মধ্যে টাকা জমা করে 7.1 শতাংশ হিসেবে 10 হাজার 650 টাকা সুদ পাবেন। অর্থাৎ যদি কেউ 5 তারিখের একদিন পর অর্থাৎ 6 এপ্রিলেও টাকা জমা করেন তবে তিনি 12 মাসির মধ্যে 11 মাস অর্থাৎ এক মাসের সুদ হারাবেন।
অবশ্যই পড়ুন: IPL-র প্রথম ম্যাচেই গড়লেন ইতিহাস, শামির জন্য খুলছে টিম ইন্ডিয়ার দরজা?
প্রসঙ্গত, PPF প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত 15 বছর হয়ে থাকে। বলে রাখি, যদি কেউ এই প্রকল্পে সঠিক সময় বিনিয়োগ করেন অর্থাৎ মাসের পহেলা তারিখ থেকে 5 তারিখের মধ্যে প্রতিবছর দেড় লাখ টাকা করে জমা দিয়ে থাকেন তবে তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদে 22 লাখ 50 হাজার টাকা জমাবেন। পরবর্তীতে সুদ যোগ হয়ে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়াবে 40 লাখ 68 হাজার টাকায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব বিনিয়োগকারীরা সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করেন তাদেরই লাভ বেশি। এর অন্যথা হলে অর্থাৎ যদি কেউ প্রত্যেক আর্থিক বছরে দেরিতে বিনিয়োগ করে থাকেন সেক্ষেত্রে তার সুদ কমতে কমতে আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক সর্বোচ্চ প্রায় 3 লাখ টাকায় দাঁড়াতে পারে।