প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই এখন থেকেই বেশ জোরকদমে ময়দানে নেমে পড়েছে সকল রাজনৈতিক দল। এদিকে ডিসেম্বর পড়তে না পড়তেই বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করতে নেমে পড়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল মালদায় জনসভার পর এক অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সভা থেকেই SIR নিয়ে একাধিক তোপ দাগেন তৃণমূলনেত্রী (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের মধ্যেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মমতা।
SIR নিয়ে অমিত শাহকে কটাক্ষ মমতার
রিপোর্ট অনুযায়ী আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, “এসআইআর না-করতে দিলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হত। আমরা অমিত শাহের সেই চালাকি ধরে ফেলেছি। আমরা অত বোকা নই বাবুমশাই, গোদিভাই! আমরা করব, লড়ব। আমরা জিতে দেখাব। আমাদের ভাতে মারা যাবে না। সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া যাবে না। এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজেদের নথিগুলো জমা দিন।”
ওয়াকফ প্রসঙ্গে সরব মমতা
বিগত কয়েকদিন মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক পরিস্থিতি ঘটতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে বিরোধীদের একাংশ নানা মন্তব্য করেন। এবার সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় বলেন, “মাঝে ধুলিয়ান একটা ঘটনা ঘটেছিল, আমি নিজে এসেছিলাম। জঙ্গিপুর একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি সংখ্যালঘু ভাইদের ফোন করেছিলাম। আমরা বরাবর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে চাই। এটা আমাদের সংবিধান শিখিয়েছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ যাতে না হয় সেই দিকও দেখব আমরা।” এরপরই এদিন ওয়াকফ প্রসঙ্গে সরব হন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে কিছু দুষ্কৃতী গুজব ছড়াচ্ছে যে রাজ্য সরকার কালেক্টরে খতিয়ান নম্বর ১-এ ধর্মীয় স্থানগুলি- মসজিদ, কবরস্থানগুলি নথিভুক্ত করছে। সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। অনেকেই বিজেপির টাকা খেয়ে মিথ্যে প্রচার করে থাকে। মনে রাখবে এআই বেরিয়েছে। তা ব্যবহার করে ভুয়ো প্রচার চালানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: মালদায় ৩০০ নাবালক সহ HIV পজেটিভ ৩১০০!
নির্বাচনের মুখে রাজ্যে যেখানে হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়েছে সেখানে দাঁড়িয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুরের জনসভায় সম্প্রীতির বার্তা দিলেন। তিনি বলেন, “প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর সম্প্রীতি দিবস পালিত হয়। সব ধর্মের মানুষ সেখানে অংশগ্রহণ করেন। সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের রক্ষা করবেন, এটাই তো নিয়ম। বাংলা সব ধর্মকে সম্মান করে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মানবে না।’’