SIR নিয়ে অশান্ত মালদা! পুলিশের উপর হামলা, উদ্ধার ৭ বিচারক, হাইকোর্টে গেল রিপোর্ট

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), আর তাই রাজ্য জুড়ে যখন ভোট প্রচারের প্রস্তুতি তুঙ্গে সেই সময় মালদহের কালিয়াচকে (Kaliachak) দেখা গেল ভয়ংকর বিক্ষোভের চিত্র। অভিযোগ ভোটার তালিকা (SIR Voter List) থেকে ‘নাম বাদ যাওয়া’কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীরা রাস্তা অবরোধ করার পাশাপাশি সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক আটকে রেখেছিলেন। তবে শেষে আজ সকালে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত করা হল। চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার প্রতিশ্রুতি পর অবশেষে শান্ত হল আন্দোলনকারীরা।

বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও

জানা গিয়েছে, SIR তালিকায় নাম ডিলিটের প্রতিবাদে গতকাল, কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস বুধবার সকাল থেকেই ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল এবং আটক করা হয়েছিল ৩ জন মহিলা বিচারক সহ ৭ জুডিশিয়াল অফিসারদের। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল একদল উত্তেজিত জনতা। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সকাল ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছিল বিক্ষোভ। অবশেষে রাত ১২টার পর ঘেরাওমুক্ত হয় ৭ জুডিশিয়াল অফিসারেরা। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যায়।

পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি আন্দোলনকারীদের

রিপোর্ট মোতাবেক, পুলিশের কনভয়ে করে জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে গাড়িতে ‘হামলার’ চেষ্টা করেছিল উত্তেজিত জনতা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের একটি গাড়ির ভিতরের দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে গাড়ির সিটে কাচ ভেঙে পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘেরাও হওয়া বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শুধু তাই নয় বিচারকদের নিয়ে যখন কনভয় যাচ্ছিল তখন এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারা হয়েছিল। সবশেষে জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও।

কী বলছেন সুকান্ত মজুমদার?

সূত্রের খবর, গত ২৩ মার্চ মালদার জেলা প্রশাসনের কাছে গণ্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জুডিসিয়াল অফিসাররা। আর সেই কারণেই নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে সরানোর আবেদন করেছিলেন তাঁরাই। কিন্তু সেই আবেদন পূরণ হওয়ার আগেই মালদহে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়। এদিকে কালিয়াচকের ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এত ক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয়টি প্রমাণ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁকে দেখাদেখি তৃণমূলের অন্য নেতৃত্বও SIR নিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন।”

আরও পড়ুন: অবশেষে সুখবর! এবার এদের দেওয়া হবে ডিএ, বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার

পাল্টা জবাব তৃণমূলের

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “ আমরা তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, এই ঘটনার গোটা দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। পাশাপাশি আমরা এও বলতে চাই, তৃণমূল কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও চেষ্টাকে সমর্থন করে না। আমরা আইনের মধ্যে থেকে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সর্বশক্তিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তারা বিজেপির মদতপুষ্ট দুই একটি দল। তারা এই ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ করছে শাসকদলের মুখে কালি দেওয়ার জন্য।” কিন্তু এই রাজনৈতিক তরজার মাঝে প্রশ্ন উঠছে। বিক্ষোভের সময় জেলা প্রশাসন বা জেলা পুলিশ কী করছিল। তবে সবটাই জানা যাবে তদন্তের রিপোর্টে।

Leave a Comment