SIR নিয়ে বৃহৎ ষড়যন্ত্র রাজ্য সরকারের? WhatsApp বার্তা ফাঁস করলেন শুভেন্দু

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ হাওয়া গরম বঙ্গ রাজনীতিতে। তার উপর শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে SIR প্রক্রিয়ার। যদিও প্রথম থেকেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল, বিতর্ক এবং সমালোচনা হয়েই চলেছে। প্রায়ই দেখা গিয়েছে শাসকদল এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগের কাঠগড়ায় তুলছে। যদিও পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন তাঁরাও। এমতাবস্থায় ফের SIR প্রসঙ্গে মমতা সরকারকে খোঁচা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

প্রশাসনের অবৈধ WhatsApp বার্তা ফাঁস শুভেন্দুর

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন বিডিও অফিসগুলিতে ‘অরাজকতা’র অভিযোগ তুলে কিছুদিন আগেই সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় শাসকদলের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রীতিমতো তুলোধোনা করেছিলেন তিনি। আর এবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শেয়ার করা একটি WhatsApp বার্তা প্রকাশ্যে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে এইমুহুর্তে আপনার দলকে সচেতন করুন যেন এখনই “NOT verified” বিকল্পে ক্লিক না করা হয়। যদি কোনও বিভ্রান্তি হয়, তাহলে দয়া করে আগে আমাকে বা OC নির্বাচনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করুন। প্রতিদিন ৩০০০ যাচাইকরণের লক্ষ্যমাত্রা যেকোনো পরিস্থিতিতেই পূরণ করতে হবে।” যা সরাসরি প্রশাসনের অবৈধ আদেশ বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

কমিশনকে তদন্তের আবেদন শুভেন্দুর

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে মমতা সরকারের এই বার্তা আসলে প্রশাসনিক কর্তৃত্বের স্পষ্ট অপব্যবহার ছাড়া কিছুই নয়। ক্রমেই তৃণমূল অযোগ্য ভোটারদের সুরক্ষা এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবং ভোটব্যাংক রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য এই ধরনের পরিকল্পনা করছে। এভাবেই একটি স্বচ্ছ SIR প্রক্রিয়াকে নষ্ট করছে। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে এই ধরণের অহেতুক এবং অবৈধ প্রশাসনিক চাপ কৌশলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিবেচনা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভূমিকার একটি উচ্চ-স্তরের তদন্ত করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: আজই ভোট হলে জিতবে বিজেপি, বাংলায় কত আসন পাবে তৃণমূল? উঠে এল সমীক্ষায়

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে SIR নিয়ে তুমুল গণ্ডগোল দেখা গিয়েছিল জেলার বিডিও অফিসগুলোতে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল সরকারি আসবাবপত্র থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নথি। আর এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশকেও কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “চোখের সামনে আসবাবপত্র ভাঙচুর, নথি নষ্ট এবং সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা চললেও পুলিশ “মেরুদণ্ডহীন দর্শকের” মতো দাঁড়িয়ে থাকছে।” পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।

Leave a Comment