SIR শুনানিতে ডাক সস্ত্রীক প্রাক্তন নৌসেনা প্রধানকে, তোপ অ্যাডমিরালের

SIR Hearing

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন, তাই সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে মৃত এবং নকল ভোটারদের সরিয়ে দিতে SIR প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়া শুধু পশ্চিমবঙ্গেই হচ্ছে তা নয়, ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। যার মধ্যে গোয়া অন্যতম। আর এই সবের মাঝেই এবার, প্রাক্তন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অবসরপ্রাপ্ত অরুণ প্রকাশকে এসআইআর-এ শুনানির নোটিস (SIR Hearing) পাঠানো হয়েছে। বাদ গেলেন না তাঁর স্ত্রীও।

SIR এর নোটিস কমিশনের তরফে

রিপোর্ট মোতাবেক, প্রাক্তন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অবসরপ্রাপ্ত অরুণ প্রকাশকে সস্ত্রীক SIR শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। জানা গিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা কর্তা বর্তমানে সস্ত্রীক গোয়ায় থাকেন। সেখানেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চালাচ্ছে কমিশন। ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে খসড়া তালিকাও। এমনকি সেই খসড়ায় নামও ওঠে অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ এবং তাঁর স্ত্রীর। তা সত্ত্বেও তাঁদের শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। অভিমানের সুরে সমাজমাধ্যমে নৌসেনার প্রাক্তন প্রধান জানিয়েছেন, তাঁরা কমিশনের নোটিস মেনে শুনানিকেন্দ্রেও যাবেন।

ভাইরাল পোস্ট প্রাক্তন নৌসেনা প্রধানের

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল তাঁর পোস্টে লেখেন, “২০ বছর আগে আমি অবসর নিয়েছি। তার পর থেকে কখনও কোনও বিশেষ সুবিধা চাইনি। কখনও দরকারও হয়নি। আমি এবং আমার স্ত্রী SIR এর ফর্ম-ও পূরণ করেছিলাম। গোয়ার খসড়া তালিকায় আমাদের নাম দেখে খুশিও হয়েছিলাম। তবে আমরা কমিশনের নোটিস অনুসারেই চলব।” এছাড়াও তিনি লেখেন, “যদি SIR-এর ফর্মগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে না পারে, তবে ওই ফর্ম সংশোধন করা উচিত।” জানা গিয়েছে, অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ১৭ জানুয়ারি এবং তাঁর স্ত্রী কুমকুমকে ১৯ জানুয়ারি তলব করা হয়েছে। এবং SIR শুনানির জন্য তাঁদেরকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাঘাযতীন স্টেশনে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড! ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা, পুড়ে ছাই অসংখ্য দোকান

দু’জনকে দুই ভিন্ন দিনে শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হয়েছে দেখে অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ সেই নিয়েও ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বয়স ৮২ বছর এবং আমার স্ত্রীর বয়স ৭৮ বছর। দু’জনকেই বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন স্থানে হাজির হতে বলা হয়েছে। এই দুই শুনানি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। এই বয়সে এত দূরে শুনানি কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অবাক হতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের উপর।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে ‘চরম প্রশাসনিক ভুল’ বলে উল্লেখ করেন

Leave a Comment