প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে SIR শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। খসড়া তালিকা প্রকাশ্যে আসার পরেই শুনানির দিকে নজর দেওয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণে কমিশন এবং রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলছে। এদিকে কিছুদিন আগেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানিতে তলব করা হয়েছিল গোটা পরিবার সহ সাংসদ অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে। উপস্থিত ছিলেন নির্দিষ্ট দিন। এমতাবস্থায় SIR শুনানিতে ডাক পেলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর (Mimi Chakraborty)।
দেবের পর ডাক পড়ল মিমির
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, আগামী ৩১ জানুয়ারি SIR শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে, সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে মিমি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাছে SIR-এর যাওয়ার নোটিশ এসেছে। আমি ৩১ জানুয়ারি অবশ্যই যাব। আমার যে বিধানসভা কেন্দ্র অর্থাৎ কসবা। যেখানে আমি ভোট দিই। সেখানেই হয়তো যেতে হবে। যা যা ডকুমেন্ট নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সবকটাই নিয়ে যাব।’ উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মিমি চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি লোকসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বর্তমানে সে সম্পূর্ণভাবে বিনোদনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।
কসবায় ডাক মানালির
এসআইআর শুনানিতে নথি-যাচাইয়ের পরীক্ষায় মিমি চক্রবর্তী ছাড়াও কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে ডাক পড়েছে টলিউডের আরও এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী মানালি দে-র। তিনি এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “এসআইআর শুনানিতে হঠাত্ করেই ডাক পেয়েছি। কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে আমি থাকি। আসলে আমার বাবার নাম নিতাই। বাংলায় নামটা ঠিক থাকলেও, ইংরাজিতে নিতাই বানানে আই-এর পরিবর্তে ই হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই শুনানিতে ডাক পেলাম। অবশ্যই যাবো আমি। ” জানা গিয়েছে, ২৭শে জানুয়ারি হাজিরা দিতে হবে মানালিকে। যদিও বিএলও-র তরফে এখনও কোনও ফোন পাননি নায়িকা।
আরও পড়ুন: খুন নয়, ময়না তদন্তের রিপোর্টে উঠে এল বেলডাঙার সেই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর আসল কারণ
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানিতে নথি-যাচাইয়ের পরীক্ষায় ডাক পড়েছিল অসুস্থ কবি জয় গোস্বামীর। শুধু তিনিই নন, শুনানি পর্বে ডাক পড়েছিল জয় গোস্বামীর মেয়েরও। যা নিয়ে তাঁর পরিবার যথেষ্ট উষ্মা প্রকাশ করে। এদিকে কিছুদিন আগে SIR শুনানির ডাক পড়েছিল অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডুর। বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে তাঁদের কাছে সব বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিনি এই দেশের নাগরিক কিনা তা জানেন না। এর পাশাপাশি আমজনতার যে হয়রানি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিয়েছেন।