বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে বহু আগেই। যার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। ঠিক অনুরূপভাবে সাম্প্রতিককালে বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের সাথে দূরত্ব বেড়েছে ভারতের। তলানিতে ঠেকেছে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে বাংলাদেশ দলের ভারতে বিশ্বকাপ (ICC T20 World Cup) খেলতে না আসা। এক কথায় বলা যেতে পারে, পরোক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে তিন দেশ ভারত-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। এমতবস্থায়, তিন বন্ধুর দ্বন্দ্বে বেজায় বেকায়দায় পড়েছে নিরীহ প্রতিবেশী তথা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে, কাদের পক্ষে এই দেশটি?
কাদের পক্ষ নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা?
ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের ভীত নড়েছে বহু আগেই। মূলত সে কারণেই ক্রিকেটেও একে অপরের দেশে গিয়ে খেলতে চায় না দুজনের কেউই। সেই মতোই, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রত্যেকটি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে পাকিস্তান। ভারতের সাথে যে ম্যাচ রয়েছে সেটাও নিরপেক্ষ ভেন্যু অর্থাৎ লঙ্কান ভূমিতেই অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এই একই আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ফলে বিশ্বকাপ থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে তাদের। এদিকে ভাই বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এমতাবস্থায় প্রশ্ন থাকে তিন দেশের টানাপোড়েনের মাঝে কাদের পক্ষে শ্রীলঙ্কা?
এতদিন পর্যন্ত, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বিতর্ক নিয়ে একটি কথাও বলেনি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের হম্বিতম্বি দেখেও চুপ ছিল তারা। তবে এবার শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের সচিব বান্দুলা দিশানায়েকে পুরনো ইস্যুতে মুখ খুলেছেন। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ তিনজনই তাদের বন্ধু। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সচিবের কথায়, “বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে আমরা নিরপেক্ষ ছিলাম। এখনও রয়েছি। এই তিন দেশ আমাদের বন্ধু।”
অবশ্যই পড়ুন: ইনস্টাগ্রাম থেকে বিরাটের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেন এই খেলোয়াড়!
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের সচিব জানিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা সকলের সাথেই ভাল সম্পর্ক রেখে চলতে চায়। কোনও ভাবেই আঞ্চলিক কোনও বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কলম্বো। ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে অবগত শ্রীলঙ্কা বোর্ড। তবে বিগত সময়ের মতো এখনও তারা নীরবতা বজায় রাখতে চায় এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে চায়। এর অর্থ, যাই হয়ে যাক না কেন তিন দেশের কারও বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না লঙ্কানরা।