সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ২০২৬ সালের UGC ইক্যুইটি রেগুলেশন কার্যকর করার উপর এবার স্থগিতাদেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court on UGC Equity)। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, এই নিয়মাবলী অনেকটাই বিস্তারিত আর বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২০১২ সালের UGC ইক্যুইটি রেগুলেশন কার্যকর থাকবে।
কেন স্থগিত হল ২০২৬ সালের রেগুলেশন?
আসলে এই মামলার মূল বিতর্ক রেগুলেশন ৩(সি) কে ঘিরে। ওই ধারায় জাতিভিত্তিক বৈষম্যের সংজ্ঞা এমন ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে শুধুমাত্র তপশিলি জাতি, তপশালি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এই সংজ্ঞার ফলে সাধারণভাবে উচ্চবর্ণের কেউ যদি বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তাদের কোনও আইনি সুরক্ষা মিলবে না।
এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন, এই নিয়মগুলি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং একতরফা। তাই তা অবিলম্বে কার্যকর করা যাবে না। এমনকি আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং UGC-কে নোটিশ জারি করেছে আর তাদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ LPG, সিগারেটের দাম থেকে FasTag! ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বদলাচ্ছে একাধিক নিয়ম
অন্যদিকে এই স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করে প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং এবং আইনজীবী প্রসন্ন এস আদালতে বলেছেন, এই নিয়মাবলী স্থগিত করা মানেই একজন সম্পূর্ণ সক্ষম মানুষকে অক্ষম বলে চিহ্নিত করা। তাঁদের যুক্তি, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলিত এবং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য একটি বাস্তব সমস্যা। আর এই নিয়মগুলি সেই সমস্যা সমাধান করার জন্যই আনা হয়েছিল।
আবেদনকারীরা কী বলছেন?
এদিকে এই মামলায় আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল দেওয়ান, মৃন্ময় তেওয়ারি এবং আইনজীবী বিনীত জিন্দাল। তাঁদের বক্তব্য, ২০২৬ সালের রেগুলেশন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শ্রেণিকেই ভুক্তভোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সাধারণ বা উচ্চ বর্ণের কেউ বৈষম্যের শিকার হলেও তা আইনের চোখে গণ্য করা হবে না। আর এতে তৈরি হচ্ছে ভুক্তভোগীতার শ্রেণীবিন্যাস, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ এর পরিপন্থি। আবেদনকারীদের স্পষ্ট দাবি, এই সংজ্ঞা বাস্তব সামাজিক নীতিকে উপেক্ষা করছে আর উচ্চশিক্ষায় সমন্বয় আনার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘সৎ সাহসই পুলিশের আসল শক্তি’ বিদায়ী মঞ্চে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ডিজিপি রাজীব কুমারের
তবে আপাতত এই মামলায় চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ২০১২ সালের UGC ইক্যুইটি রেগুলেশন বহাল থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। আর কেন্দ্র এবং UGC এর জবাবের পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আসবে। এখন দেখার, এই মামলা আগামী দিন শিক্ষানীতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর কী প্রভাব ফেলে।